বাতজ্বর থেকে হৃদরোগ: অবহেলা করলে ভয়াবহ পরিণতি
ডা. আবদুল্লাহ শাহরিয়ার
প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৩০
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাতজ্বরকে অনেকেই শুধু গাঁটের ব্যথার রোগ হিসেবে মনে করেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বাতজ্বর একটি ভয়াবহ প্রদাহজনিত রোগ, যা হৃদযন্ত্রের ওপর স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে শিশু ও কিশোর বয়সে বাতজ্বর হলে ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বাতজ্বর মূলত স্ট্রেপটোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের পর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ার কারণে হয়। এ রোগে হৃদযন্ত্রের ভালভ আক্রান্ত হতে পারে। বারবার বাতজ্বরে আক্রান্ত হলে ভালভের ক্ষতি স্থায়ী হয়ে যায়, যাকে বাতজ্বরজনিত হৃদরোগ বলা হয়।
এই রোগে আক্রান্ত হলে রোগীর শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় করা, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, পা ফুলে যাওয়া ও কাশি দেখা দিতে পারে। অনেক সময় রোগ ধীরে ধীরে বাড়ে এবং রোগী বুঝতে পারেন না যে হৃদযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাতজ্বর নির্ণয়ের জন্য জোনস ক্রাইটেরিয়া অনুসরণ করা হয়। এতে কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ ও পরীক্ষার ফল একত্রে বিশ্লেষণ করা হয়। চিকিৎসায় পেনিসিলিন ও প্রদাহনাশক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। হৃদযন্ত্র আক্রান্ত হলে হাসপাতালে ভর্তি করে নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়।
বাতজ্বরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রতিরোধ। যারা একবার বাতজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের দীর্ঘ মেয়াদে নিয়মিত পেনিসিলিন গ্রহণ করতে হয়, যাতে পুনরায় সংক্রমণ না ঘটে। নিয়ম মেনে চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বাতজ্বরজনিত হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
লেখক : অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, শিশু বিভাগ, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল।
- বিষয় :
- হৃদরোগ
