ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

হাম ও উপসর্গে রোগী লাখ ছাড়াল, মৃত্যু ৬৬৬

২৪ ঘণ্টায় ৫ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১০৪৮

হাম ও উপসর্গে রোগী লাখ ছাড়াল, মৃত্যু ৬৬৬
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ | ০৮:৫৭ | আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ | ০৯:০০

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে চলতি বছরের হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। রোগী শনাক্ত ও উপসর্গে আক্রান্তের মোট সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ৬৭৭ জন। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ৬৬৬ জনের, যা দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৩৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে এক হাজার ৯ জন। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগী ১০ হাজার ৭৭৩ এবং উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৮৯ হাজার ৯০৪ জন।

চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশে হামের প্রকোপ বাড়তে থাকে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে রোগটি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় ১৫ মার্চ থেকে হাম-সংক্রান্ত তথ্য ও পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০০৫ সালে দেশে সর্বোচ্চ ২৫ হাজারের বেশি শিশু হাম আক্রান্ত হয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭৪ হাজার ১৮৪ জন। তাদের মধ্যে ৭০ হাজার ৫০৩ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে উপসর্গযুক্ত রোগীদের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭৩। এর বাইরে পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া ৯৩ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩৯ জনের শরীরে এবং উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ৯ জনের শরীরে। 
মৃত্যুর দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এখানে মারা গেছে ২৯৭ জন। এরপর রাজশাহীতে ৮৯, সিলেটে ৭৫, চট্টগ্রামে ৫৮, বরিশালে ৫৭, ময়মনসিংহে ৫৫, খুলনায় ২৭ এবং রংপুরে আটজনের মৃত্যু হয়েছে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. আতিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বড় জটিলতা হলো হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া। এবারের নিউমোনিয়া সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি মারাত্মক। এতে রোগীর ফুসফুস গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা বেড়ে যাচ্ছে। সাধারণ নিউমোনিয়ায় রোগীরা তুলনামূলক দ্রুত সুস্থ হলেও হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকও কার্যকর হচ্ছে না। এ ছাড়া ডায়রিয়া, সেপসিস ও কানের সংক্রমণের মতো জটিলতাও দেখা দিচ্ছে।

জনস্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞ লেলিন চৌধুরীর মতে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজারের বেশি মানুষ হামে আক্রান্ত হচ্ছে। যদিও শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় বড় ধরনের ওঠানামা নেই, তবু প্রতিদিন তিন থেকে ছয়জনের মৃত্যু উদ্বেগের বিষয়। সরকারি হিসাবের বাইরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। পাশাপাশি হামের প্রকৃতিতেও পরিবর্তন এসেছে। আগে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি দেখা গেলেও এখন তুলনামূলক বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন প্রাপ্তবয়স্করা। বিশেষ করে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মতে, হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি পদক্ষেপগুলো সময়মতো নেওয়া হয়নি। এখনও পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে চিকিৎসকরা সমন্বিত নির্দেশনা পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে শিশুমৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে প্রয়োজনীয় ডেথ রিভিউ বা ক্লিনিক্যাল অডিটও হচ্ছে না। 

আরও পড়ুন

×