ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

হাম

টিকার কাভারেজ নিয়ে প্রশ্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের

টিকার কাভারেজ নিয়ে প্রশ্ন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ০৮:২১ | আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ | ০৯:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি টিকা কাভারেজ ৯৯ শতাংশ হওয়ার দাবি করা হয়। তবে ১০ দিন পর প্রকাশিত আরেক বুলেটিনে বলা হয়, আট বিভাগের এক কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন লক্ষ্যমাত্রাভুক্ত শিশুর বিপরীতে টিকা দেওয়া হয়েছে এক কোটি ৮৪ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪২ জনকে। সে হিসাবে টিকার কাভারেজ দাঁড়ায় ১০৩ শতাংশ।

তবে এ হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, সরকারি হিসাবে যেসব শিশু লক্ষ্যমাত্রার আওতায় ছিল, তাদের ভিত্তিতেই কাভারেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে টিকা পাওয়ার উপযুক্ত সব শিশু সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নাও থাকতে পারে। তাঁর মতে, সর্বশেষ টিকাদান কর্মসূচির আগে পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় অনেক শিশু ‘মাইক্রোপ্ল্যানের’ বাইরে থেকে যেতে পারে। মহামারি নিয়ন্ত্রণে সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা জরুরি।

একই ধরনের মত দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ। তিনি বলেন, টিকার কাভারেজ শতভাগের বেশি হওয়ার দাবি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর ভাষ্য, যদি সত্যিই টিকার কাভারেজ শতভাগের কাছাকাছি হতো, তাহলে এতদিনে সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসার কথা। বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বোঝা যায়, কোথাও না কোথাও কাভারেজের ঘাটতি রয়েছে।

বয়সভেদে টিকার কার্যকারিতা ভিন্ন
জনস্বাস্থ্য ও টিকাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, জন্মের আগে ও পরে শিশু মায়ের কাছ থেকে কিছু অ্যান্টিবডি পায়, যা জীবনের প্রথমদিকে হাম টিকার কার্যকারিতাকে কিছুটা প্রভাবিত করতে পারে।
তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ছয় মাস বয়সে হাম টিকার কার্যকারিতা প্রায় ৫০ শতাংশ, ৯ মাসে ৮৫ শতাংশ, ১২ মাসে ৯০ শতাংশ এবং ১৫ মাসের বেশি বয়সে তা প্রায় ৯৫ শতাংশে পৌঁছে। প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী বয়সে কার্যকারিতা প্রায় ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

সংক্রমণ কমতে শুরু করেছে
তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেছেন, টিকাদান কর্মসূচির কাভারেজ সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে হামের সংক্রমণ, নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুহার আগের তুলনায় কমেছে। তিনি বলেন, হাম একদিনে নির্মূল হবে না। সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমছে। আশা করছি, চলতি মাসের শেষ নাগাদ পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

হামে ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট ৬৭০
হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট বিভাগে দুই শিশু এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে একটি করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭০-এ দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ৫৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে এবং ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে। গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ সময়ে নতুন করে ৯৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে এক হাজার ৭৮ জনের মধ্যে। সন্দেহভাজন হাম রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৭২ জন। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৬১ জন ঢাকা বিভাগের। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগে ২১৬ এবং বরিশাল বিভাগে ১৩২ জন ভর্তি হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×