হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, ‘প্রথম চ্যাম্পিয়ন’ হতে চায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়
বুধবার সকালে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো’ উপলক্ষে আয়োজিত এক প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। ছবি-সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | ১৭:৫৮
দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে বড় বড় হাসপাতালের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে জাতীয় এ উদ্যোগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ‘প্রথম চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ কেবল সাধারণ কোনো সেবা নয়, এটি অপরিহার্য প্রয়োজন এবং সরাসরি স্বাস্থ্য নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত।
বুধবার সকালে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো’ উপলক্ষে আয়োজিত এক প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। সরকারি খাতে ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণে দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যে ‘সরকারি খাতে ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে দৃষ্টান্ত স্থাপন’ শীর্ষক এ আলোচনার আয়োজন করে বিদ্যুৎ বিভাগ ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)।
ড. এম এ মুহিত বলেন, সারা দেশে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সরকারের প্রায় ১৫ হাজার স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া জেলা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে স্বাস্থ্য খাতে বিশাল অবকাঠামো রয়েছে। হাসপাতালের কার্যক্রমের বড় অংশ দিনের বেলা পিক আওয়ারে পরিচালিত হয়, যা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়ের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, অপারেশন থিয়েটার, জরুরি সেবা, নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এবং ভ্যাকসিনের কোল্ড চেইনের সুরক্ষায় ডিজেলনির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে সরকার বদ্ধপরিকর। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে সব স্বাস্থ্য অবকাঠামোর কাঠামোগত অবস্থা ও জ্বালানি চাহিদা নিরূপণে অডিট সম্পন্ন করা হবে।
একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন এনার্জি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে লক্ষাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনগুলোর ছাদ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উপযোগী, তা আগামী ছয় মাসের মধ্যে যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা করা হবে। ইতোমধ্যে ৫০টির বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩০টিরও বেশিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মাহ্দী আমিন আরও বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে স্বনির্ভর হতে হলে এ খাতের সহায়ক শিল্প বা ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে এ খাতের দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মো. হাসান জাকির তুহিন জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রায় ১৭ হাজার সেচ পাম্পকে সৌর নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। শুষ্ক মৌসুমের বাইরে অব্যবহৃত সময়ে এসব সৌর প্যানেল থেকে জাতীয় গ্রিডে ৪৫০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে বছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয় হবে।
সরকারি অবকাঠামোর সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা তুলে ধরে ইডকলের হেড অব রিনিউয়েবল এনার্জি এনামুল করিম পাভেল বলেন, সরকারি ভবনগুলোর ছাদ থেকেই প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ওপেক্স মডেলের আওতায় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্য শতভাগ পেমেন্ট সিকিউরিটি এবং সহজ শর্তে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সোল্যারিকের পরিচালক প্রকৌশলী নাজনীন আক্তার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সুরক্ষায় স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সৌরবিদ্যুৎ খাতের উদ্যোক্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।