মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের ছেলের বুকে ছুরিকাঘাত
শাহরিয়ার জামান রানা
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ০৩:০১
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জামায়াত নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনের বড় ছেলে শাহরিয়ার জামান রানাকে (৫২) ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার গচিহাটা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতারা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আখতারুজ্জামান।
শাহরিয়ারের বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তাঁকে প্রথমে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে নেওয়া হয় তাঁকে ঢাকায়।
আখতারুজ্জামান রঞ্জন গতকাল রাতে ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, গতকাল রাত ৮টার দিকে কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা গ্রামের নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসেছিলেন তাঁর ছেলে শাহরিয়ার। পার্শ্ববর্তী সহশ্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজন গিয়ে সম্মিলিতভাবে তাঁকে ছুরিকাঘাত করেন। তিনি এলাকার বিএনপির সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন ও কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দীলিপকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বিষয়টি পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ও কটিয়াদী থানার ওসি রফিকুল ইসলামকেও জানিয়েছেন। হামলাকারীদের নামধাম স্পষ্ট করে তাদের জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন আখতারুজ্জামান।
এই জামায়াত নেতা আরও জানিয়েছেন, বিএনপির পক্ষ থেকে এখন জামায়াতের ওপর রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করা হয়েছে।
আখতারুজ্জামানের প্রতিষ্ঠিত গচিহাটা কলেজে আজ বৃহস্পতিবার সকালে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তাঁর ছেলে শাহরিয়ার জামানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। আগামীকাল শুক্রবার সকালে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে আখতারুজ্জামানকে উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন খান দীলিপ বলেছেন, তাঁকে আখতারুজ্জামান ফোন করে ঘটনা জানিয়েছেন। তবে কারা করেছে, বুঝতে পারছেন না। তবে বৃহস্পতিবার সকালে এলাকায় গিয়ে খোঁজখবর নেবেন। দলের কারও বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ও কটিয়াদী থানার ওসি রফিকুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করলেও তারা ফোন ধরেননি।
কটিয়াদী থানার ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হামলার কারণও জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
- বিষয় :
- কিশোরগঞ্জ