ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি  ইতিহাসের সর্বনিম্ন
×

ওবায়দুল্লাহ রনি

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০৫ | আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৪৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সুদহার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি আরও কমে দেশের ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। গত জুন শেষে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। প্রথমবারের মতো ঋণপ্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নামে গত মার্চে। এর আগে কখনও প্রবৃদ্ধি এত নিচে নামেনি। বর্তমান সরকার প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি কর্মসংস্থানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সেটি আদৌ বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে এমনিতেই এক শ্রেণির ব্যবসায়ী চাপে আছেন। এর মধ্যে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের কারণে অনেক কারখানা উৎপাদন কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে। আবার উচ্চ সুদহার নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। ফলে নতুন করে বিনিয়োগের তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছেন না উদ্যোক্তারা। অবশ্য বন্ধ কারখানা সচলসহ উৎপাদন বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। কম সুদের এ তহবিল নিতেও খুব একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না কাউকে। এর মধ্যে সম্প্রতি সিটি গ্রুপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বড় বিনিয়োগ করে বিদ্যুৎ, গ্যাস সংযোগের অভাবে উৎপাদনে যেতে না পারার কথা জানা গেছে। এসব ক্ষেত্রে উন্নতির জন্য বেশ আগ থেকে নানা আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। যে কারণে অনেকের হাতে টাকা থাকলেও তারা বিনিয়োগ না করে বসে আছেন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি দুই অঙ্কের ওপরে ছিল। সর্বশেষ ছিল ২০২৪ সালের জুলাইয়ে। ওই মাসে প্রবৃদ্ধি হয় ১০ দশমিক ১৩ শতাংশ। এরপরের মাসে তা কমে ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশে নেমে আসে। এর পর ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে এ পর্যায়ে নেমে যায়। সব শেষ গত বছরের জুন শেষে প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে যায়। গত বছরের ডিসেম্বরে আরও কমে হয় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। অবশ্য বিগত সরকারের সময়ে বিতরণ করা ঋণের গুণগত মান নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। বেনামে ঋণ নিয়ে বিপুল অর্থ পাচারের তথ্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে বর্তমান সরকার। এরই মধ্যে বিদেশে কারও কারও সম্পদ জব্দ হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশের মধ্যে রাখার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে, মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হলেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। বিনিয়োগ পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ডিসেম্বর নাগাদ বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থবছর শেষে ৮ শতাংশ ধরা হয়েছে। আগের মুদ্রানীতিতে গত জুন পর্যন্ত সাড়ে ৮ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে নেমেছে। মুদ্রা সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ১১ শতাংশ। রিজার্ভ মানির প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৭ শতাংশে নামানো হবে। এ সব লক্ষ্য অর্জনের জন্য সম্প্রতি প্রধান নীতি সুদহার রেপোতে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। বিশেষ ধারে ব্যবহৃত এসএলএফ রেট কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ব্যাংকগুলোর টাকা রাখতে ব্যবহৃত এসডিএফ সাড়ে ৭ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর কাছে এখন তারল্যের কোনো সংকট নেই। গত মে পর্যন্ত ব্যাংকগুলোতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা। তবে ব্যাংকগুলো বেসরকারি বিনিয়োগ করতে না পারায় এখন ট্রেজারি বিল-বন্ডে বেশি টাকা খাটাচ্ছে। গত অর্থবছর ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে রেকর্ড এক লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার। এর আগে কোনো এক বছরে সর্বোচ্চ এক লাখ ২২ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা ঋণের রেকর্ড ছিল ২০২২-২৩ অর্থবছরে।

আরও পড়ুন

×