ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

শ্রীলঙ্কার ভয়াবহ আর্থিক সংকটের তথ্য গোপন রেখেছিলেন গোটাবায়া: রনিল

শ্রীলঙ্কার ভয়াবহ আর্থিক সংকটের তথ্য গোপন রেখেছিলেন গোটাবায়া: রনিল
×

রনিল বিক্রমাসিংহে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২২ | ২২:৫৪ | আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২২ | ২২:৫৪

শ্রীলঙ্কার ভয়াবহ আর্থিক সংকটের তথ্য আগের সরকার গোপন করছিল। সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে। বিক্রমাসিংহে বলেন, বিদেশি ঋণের ভারে জর্জরিত শ্রীলঙ্কা যে অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়ছে, সেই সত্য প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের সরকার চেপে রেখেছিল।

সোমবার দেশের প্রশাসনিক রাজধানী শ্রী জয়াবর্ধনেপুরা কোট্টের পার্লামেন্ট থেকে সিএনএনের সঙ্গে কথা বলেন বিক্রমাসিংহে। তিনি বলেছেন, গোটাবায়া সরকার সত্যটা জানায়নি যে, শ্রীলঙ্কা 'দেউলিয়া' হয়ে পড়েছে এবং সেজন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে যাওয়া প্রয়োজন। যে কারণে এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে আমি জানি, সেটা আমি জনগণকে বলতে পছন্দ করি। আমরা পেছনে পড়ে গেছি। যে সম্পদ আছে, তা কাজে লাগিয়ে নিজেদের টেনে তুলতে হবে।

দেশকে অর্থনৈতিক স্থিতাবস্থায় ফেরানোর প্রত্যয় জানিয়ে এই রাজনীতিবিদ বলেন, আমাদের পাঁচ বা দশ বছরের প্রয়োজন নেই। আগামী বছরের শেষ নাগাদ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে শুরু করবে। ২০২৪ সাল নাগাদ আমরা একটি কার্যকর অর্থনীতি পাব, যার প্রবৃদ্ধি শুরু হবে। গোটাবায়ার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলে জানান বিক্রমাসিংহে। তবে গোটাবায়া সিঙ্গাপুরেই আছেন নাকি অন্য কোথাও গেছেন, তা তিনি জানেন না। গোটাবায়া প্রথমে মালদ্বীপ, পরে সেখান থেকে সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যান।

বিক্রমাসিংহে এখন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য লড়ছেন। আজ বুধবার দেশটিতে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হবে। ক্ষমতাসীন পোদুজানা পেরামুনা দলের প্রার্থী ছয়বারের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তাকে লড়তে হবে আরও দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে। তবে প্রেসিডেন্ট পদে বিক্রমাসিংহের মনোনয়ন এরই মধ্যে টালমাটাল ২ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশটিকে নতুন করে বিক্ষোভের ঝুঁকিতে ফেলেছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাকেও মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁর ব্যক্তিগত বাসভবনেও এরই মধ্যে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর পরও প্রেসিডেন্ট পদে লড়ার প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করে বিক্রমাসিংহে বলেন, তিনি আগের সরকারের কেউ নন।

আমি তাদের কেউ নই, জনগণ বিষয়টি জানে। অর্থনীতি সামাল দিতে আমি দায়িত্ব নিয়েছি বলে জানান তিনি। প্রেসিডেন্ট হয়ে কেন নিজেকে বিক্ষোভকারীদের পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু করতে চান- এমন প্রশ্নের উত্তরে বিক্রমাসিংহে বলেন, আমি চাই না দেশে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক, যা আমার প্রতি হয়েছে, অন্যরাও সে ধরনের ভোগান্তিতে পড়ুক, তা আমি চাই না। নিশ্চিতভাবে আমি চাই না, সেটা অন্য কারও ক্ষেত্রে ঘটুক।

তিনি বলেন, তার যে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেখানকার বেশিরভাগ জিনিসই রক্ষা করা যায়নি। চার হাজারের বেশি বই সেখানে নষ্ট হয়েছে, যার মধ্যে শত বছরের পুরোনো বইও ছিল। ১২৫ বছরের পুরোনো একটি পিয়ানোও পুড়ে গেছে। এর পরও দেশের সর্বোচ্চ পদে লড়াইয়ের ইচ্ছা ব্যক্ত করে বিক্রমাসিংহে বলেন, তিনি আর বিগত সরকার 'এক নন'। জনগণও সেটা জানে। দেশটিতে বিক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। জনগণকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ পালনের আহ্বান জানিয়ে বিক্রমাসিংহে বলেন, পার্লামেন্ট সদস্য এবং পার্লামেন্টকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেবেন না।

শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি একটু একটু করে খারাপের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু সেটা কতটা খারাপ, তা প্রকাশ্যে আসে এ বছরের প্রথম ভাগে। যখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে নেমে যাওয়ায় খাদ্য ও জ্বালানির মতো জরুরি রসদ আমদানিও অসম্ভব হয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কার জন্য। ওষুধসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট তীব্র হয়ে ওঠে। জিনিসপত্রের দাম এবং সরবরাহ সংকটে অসহায় মানুষের মধ্যে এরপর বিক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। বিক্ষোভকারীরা প্রধান সড়কের দখল নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগের দাবি জানান। এদিকে আজ বুধবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য গণ-অসন্তোষ ঠেকাতে সোমবার থেকে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট বিক্রমাসিংহে।

আরও পড়ুন

×