ঢাকা রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬

ব্রিটেনে করোনাভাইরাস অ্যান্টিবডি পরীক্ষা নিয়ে সতর্কবার্তা

ব্রিটেনে করোনাভাইরাস অ্যান্টিবডি পরীক্ষা নিয়ে সতর্কবার্তা
×

ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২০ | ০৩:২২ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০

করোনাভাইরাস অ্যান্টিবডি পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুতই হয়তো ব্রিটেনের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে- এমনটাই আশা করা হচ্ছিল। তবে এই পরীক্ষার মাধ্যমে শতভাগ সফলতা পাওয়া যাবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ব্রিটেনের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও এ বিষয়ে একমত। অর্থাৎ অ্যান্টিবডি পরীক্ষাকে এখনও পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য মনে করা হচ্ছে না।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানুষ যাতে পুনরায় কাজে যোগ দিতে পারে সে জন্য করোনাভাইরাস অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় জোর দিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসে একবার আক্রান্ত হলে কোনো ব্যক্তি যে পুনরায় আক্রান্ত হবেন না সে ব্যাপারে এখনও শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া ব্রিটিশ সরকারের করোনাভাইরাস পরীক্ষার সমন্বয়কেন্দ্র থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, কেউ যেন ব্যক্তিগতভাভে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি পরীক্ষা না করেন।

অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় দেখা হয় কারও শরীরে ইতিমধ্যেই করোনাভাইরাস রয়েছে কিনা। একই সঙ্গে দেখা হয় কারও শরীরে এই ভাইরাস প্রতিরোধী ক্ষমতা (অ্যান্টিবডি) তৈরি হয়েছে কিনা। একটি যন্ত্রের মধ্যে এক ফোঁটা রক্ত নিয়ে এ পরীক্ষা করা হয়। এর ফল জানা যায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। এক ফোঁটা রক্ত যন্ত্রে থাকা একটি তরল রাসায়নিকের সঙ্গে মেশানো হয় এবং এই পরীক্ষা বলে দেয় যে, কারও শরীরে ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি আছে কিনা।

সরকারের পক্ষ থেকে ব্রিটেনে ইতিমধ্যে করোনাভাইরাস অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ৩৫ লাখ কিট সরবরাহ করা হয়েছে। তবে সেগুলোর নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে কোনো পরীক্ষার অনুমোদন সরকার দেবে না বলে জানানো হয়েছিল।

অধ্যাপক জন নিউটন সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, শতভাগ কার্যকরী প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত জনগণ যেন করোনাভাইরাস অ্যান্টিবডি পরীক্ষার কিট না কেনেন। আমরা এ নিয়ে দিনরাত গবেষণা করছি। আশা করছি খুব শিগগির বড় ধরনের সফলতা পাব। আমরা রক্ত পরীক্ষার আরও একটি ধরণ নিয়ে গবেষণা করছি। এর মাধ্যমে রক্তের প্লাজমায় কী ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরি হয় তা নির্ধারণ করা যাবে।

জেনেভার সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কভিড-১৯ বিষয়ক কারিগরি প্রধান মারিয়া ভন কেরখোভে বলেন, করোনাভাইরাস অ্যান্টিবডি পরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে এখনও তারা সন্দিহান। কারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এখনও বোঝা সম্ভব না যে, কারও শরীরে করোনাভাইাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কিনা। কোনো ব্যক্তি দ্বিতীয়বার সংক্রমিত হবেন না- এমন নিশ্চয়তাও এখনও পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কারও রক্তে অ্যান্টিবডি থাকলেই যে সেই ব্যক্তির শরীর ভাইরাস প্রতিরোধী হবে তারও কোনো একাট্টা প্রমাণ নেই।

তবে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস পরীক্ষার নানা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ভন কেরখোভে।

ব্রিটেনে নাক ও গলার ভেতর থেকে লালার নমুনা নিয়ে করোনোভাইরাসের পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ এ পদ্ধতি অনুসরণ করছে। 

গতকাল শুক্রবার ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বলেছেন, খুব শিগগির পুলিশ, জেলের নিরাপত্তাকর্মী ও দমকল বাহিনীর সদস্যদেরও করোনাভাইরাস টেস্ট করা হবে। এ ছাড়া ৫০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার সংখ্যাও ব্যাপক হারে বাড়ানো হয়েছে। এপ্রিলের শেষ নাগাদ প্রতিদিন এক লাখ মানুষের পরীক্ষা শুরু হবে।

ব্রিটেনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের।

আরও পড়ুন

×