ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

বিধানসভা নির্বাচন: মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় এগিয়ে বিজেপি

বিধানসভা নির্বাচন: মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় এগিয়ে বিজেপি
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ২৩:২৩

ভারতের মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। ভোট গণনায় এখন পর্যন্ত এই দুই রাজ্যে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এগিয়ে আছে। 

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় ভোট গণনা শুরু হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

সোমবার ১৮টি রাজ্যের ৫১টি বিধানসভা আসন এবং দুটি লোকসভা আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেই কেন্দ্রগুলিরও ভোট গণনা শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার সকালে।

মহারাষ্ট্র শিবসেনার সঙ্গে জোট বেঁধে দ্বিতীয় মেয়াদেও সেখানে ফিরতে চাইছে গেরুয়া দল। বিজেপিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ দেওয়ার জন্যে মহারাষ্ট্রে শরদ পাওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে লড়ছে কংগ্রেস। এক্সিট পোল অনুযায়ী অবশ্য দুটি রাজ্যেই বিজেপির জয়ের পূর্বাভাস মিলেছে। 

তবে এক্সিট পোলের ভাবনা ভুলও হতে পারে। জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ ও নাগরিকদের জাতীয় নিবন্ধিকরণের মতো বিষয়কে হাতিয়ার করেই প্রচার করে বিজেপি। এই দুই রাজ্যে ভোটের ফলাফল বের হলে বোঝা যাবে যে আদৌ সাধারণ মানুষ নরেন্দ্র মোদি সরকারের এই দুই নীতির সমর্থন করছেন কিনা। 

মহারাষ্ট্রে বিজেপি এবং শিবসেনা জোট ২৮৮টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৬৭ আসনে এগিয়ে রয়েছে। কংগ্রেস এবং ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) ৮৬টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে গেলে পেতে হবে মোট ১৪৫টি আসন।

হরিয়ানায় বিজেপি ৯০টি আসনের মধ্যে আপাতত ৪৫টিতে এগিয়ে রয়েছে এবং কংগ্রেস ২৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্যে যে কোনো দলকে পেতে হবে ৪৬টি আসন। বিজেপির জয় হলে এই আসনে মনোহর লাল খাট্টারের সরকার ফের ক্ষমতায় বসতে চলেছে।

১১টি এক্সিট পোলে ইঙ্গিত, বিজেপি-শিবসেনা জোট মহারাষ্ট্রে ২১১টি আসন পেতে পারে। এদিকে কংগ্রেস এবং শরদ পাওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি জোট বেঁধে পেতে পারে ৬৪টি আসন। যেখানে গতবার তারা পেয়েছিল ৫৬টি আসন। এবার তাদের আসন সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সোমবার উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৮টি রাজ্যের ৫১টি বিধানসভা আসন এবং দুটি লোকসভা আসনেও। বিজেপি এবং তার মিত্রদের এই বিধানসভা আসনগুলির মধ্যে প্রায় ৩০টি আসন ছিল, আর কংগ্রেসের ছিল ১২টি। বাকিগুলি আঞ্চলিক দলগুলির। 

উত্তর প্রদেশেও ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে, যেটাকে অনেকেই ছোটখাটো বিধানসভা নির্বাচন হিসাবেই দেখছে। কেননা এখানে ১১টি আসনে উপ-নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়, পাশাপাশি গুজরাট (৬টি আসন), বিহার (৫টি আসন), আসাম ও পাঞ্জাব (প্রত্যেকে ৪টি আসন), কেরালায় ৫টি আসন রয়েছে আসন), সিকিম (৩টি আসন), রাজস্থান, হিমাচল প্রদেশ এবং তামিলনাড়ু (প্রত্যেকে ২টি আসন) এবং অরুণাচল প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, ওড়িশা, ছত্তিশগড়, পুডুচেরি, মেঘালয় এবং তেলঙ্গানার একটি করে আসনে ভোটগ্রহণ হয়।

 গত পাঁচ বছরে মহারাষ্ট্রে শিবসেনার সঙ্গে নানা সময়ে বিজেপির মতবিরোধ হলেও এই নির্বাচনেও তারা শিবসেনার সঙ্গেই জোট বেঁধে লড়েছে। ২০১৪ সালে যখন দুটি দলের মধ্যে অল্প সময়ের এক বিচ্ছেদ হয়েছিল তখন দুই দলের কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সফল হয়নি। শিবসেনা সেই সময় রাজ্য ও কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতি বিরুদ্ধে প্রচুর সমালোচনা করে।

এবার, শিবসেনা বিজেপির সঙ্গে ৫০:৫০ আসন ভাগাভাগির প্রস্তাব দিলেও তাদের বেশ কয়েকটি কম আসনই দেওয়া হয়েছে। যদিও এই প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে যে বিজেপি-শিবসেনা জোট জয় পেলে শিবসেনার থেকেই উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদে বসানো হবে। পাশাপাশি বিজেপি এও ঘোষণা করেছে, সেখানে জয় পেলে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সরকারই সেখানে ফের সরকার গড়বেন।

মহারাষ্ট্রে উপ মুখ্যমন্ত্রী পদে শিবসেনা প্রার্থী হবেন সম্ভবত আদিত্য ঠাকরে, যিনি তার দাদু বাল ঠাকরের দল গঠনের পর থেকে তার পরিবারের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।

বিরোধীরা একাধিক স্থানীয় ইস্যু যেমন বেকারত্ব, কৃষির সংকট, কৃষকদের আত্মহত্যা এবং অর্থনীতির মন্দার বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করে নির্বাচনী প্রচারে, যেখানে জাতীয় ইস্যুগুলি তুলে ধরে প্রচার চালায় বিজেপি। এই নির্বাচনের ফলাফল থেকে বোঝা যাবে যে, ভোটাররা স্থানীয় ইস্যু নাকি জাতীয় ইস্যু, কোনটার উপর ভিত্তি করে তাদের ভোট দিয়েছেন।

বিরোধী দল, বিশেষত কংগ্রেসের জন্যে এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেননা তারা ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই করছে। লোকসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবি এবং দলের শীর্ষ পদ থেকে রাহুল গান্ধী সরে যাওয়ার পরে নেতৃত্বের পরবর্তী পরিস্থিতিতে সংকট দেখা দিয়েছে।

বিজেপি মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় প্রচারের জন্য একের পর এক হেভিওয়েট নেতা নিয়ে আসেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি ১৬টি সমাবেশ এবং অমিত শাহ ২৫ সমাবেশ করেছেন। সেখানে কংগ্রেসের রাহুল গান্ধি মাত্র ৭টি সমাবেশ করেন।  তার মা তথা কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী কোনো সমাবেশই করেননি। হরিয়ানায় তার সমাবেশ বাতিল হলে সেখানে সমাবেশ করেন রাহুল গান্ধী।

আরও পড়ুন

×