স্বপ্ন ছোঁয়ার মিশন আজ ঋতুদের
ছবি- বাফুফে
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ | ১৫:০৬
পেছনে আরব সাগর। সামনে থাকা ট্রফির দিকে তাকিয়ে দুই দলের কোচ-অধিনায়ক। এই ট্রফি জয়ের জন্য ডাগ আউটে যেমন থাকবে মস্তিষ্কের লড়াই, তেমনি করে সবুজ গালিচায় লড়বেন ২২ যোদ্ধা। ২০২২ ও ২০২৪ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জেতা বাংলাদেশ তাকিয়ে হ্যাটট্রিক ট্রফির ট্রফি। আর হারানো সাম্রাজ্য ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে ভারত আত্মবিশ্বাসী হলেও মারিয়া মান্দা-মনিকা চাকমারা নতুন ইতিহাস লিখতে চান গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে।
এই মাঠে আজ শনিবার নারী সাফের ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ঋতুপর্ণা চাকমা-আফঈদা খন্দকারদের হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের পথে শুধুই ভারত বাধা। গ্রুপ পর্বে এই দলটির কাছে হারলেও শিরোপা মঞ্চে নিজেদের নিংড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অধিনায়ক মারিয়া। দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ খ্যাত নারী সাফে দুই প্রতিবেশীর লড়াইটি শুরু হবে আজ সন্ধ্যা ৭টায়।
এবারের নারী সাফে একমাত্র অপরাজিত দল ভারত। সেমিফাইনালসহ তিন ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি তারা। বিপরীতে এই ভারতের কাছে গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে ৩-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। আগের দুই আসরের মতো এই সাফে বাংলাদেশের মেয়েদের পারফরম্যান্সটা ঠিক নিজেদের মানের নয়। শেষ চারে নেপালকে হারালেও বাংলাদেশের রক্ষণের দুর্বলতা ছিল স্পষ্ট। এসব কিছু ভুলে গিয়ে শিরোপাতেই চোখ বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারের।
শুক্রবার ফাইনালপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন ব্রিটিশ এ কোচ, ‘আমি এটাই বলব, আমরা ফাইনালে আছি। আপনি যখন কোনো প্রতিযোগিতায় খেলবেন, তখন সবসময় সুন্দর ফুটবল খেলাটাই বড় কথা নয়; বড় কথা হলো শেষ রেখা পার হওয়া। আমি এই ইন্ডাস্ট্রিতে (কোচিং) ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে আছি, যা আপনাদের অনেকের বয়সের চেয়ে বেশি। আর আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে পারি, সেরা দলগুলোও তাদের পথচলায় সবসময় দুর্দান্ত ফুটবল খেলে না; বিশেষ করে সেমিফাইনাল, ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সাফল্যের পথে। এখানে মূল বিষয় হলো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, পারিপার্শ্বিকতা সামলানো এবং সবচেয়ে বড় কথা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করা।’
আক্রমণভাগে ভারত বেশ শক্তিশালী। বিশেষ করে আভেকা সিংয়ের গতির সঙ্গে টেক্কা দিতে পারছেন না প্রতিপক্ষের কেউই। এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোল এ ফরোয়ার্ডের। এই পজিশনে ঠিকমতো জ্বলে উঠছেন না বাংলাদেশের কেউই। বাংলাদেশের ফুটবলারদের একাধিক গোল নেই। একটি করে গোল করেছেন আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, ঋতুপর্ণা চাকমা, কৌহাতি কিসকু, উমহেলা মারমা ও সুরভী আকন্দ প্রীতি। তবে ফরোয়ার্ডরা প্রত্যাশা মেলাতে না পারলেও বাংলাদেশের ভরসা ঋতুপর্ণা চাকমা। সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে করেছেন অলিম্পিক গোল। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালেও এই তারকার দিকে তাকিয়ে সবাই।
বাটলার অবশ্য শুধু ঋতুপর্ণার ওপরই ভরসা রাখতে চান না। শিরোপা জয়ে সবার অবদান দেখতে চান তিনি, ‘সে (ঋতুপর্ণা) দলের বাকি খেলোয়াড়দের চেয়ে আলাদা কিছু নয়; যেমন মারিয়া মান্ডা, মনিকা চাকমা বা মিলি। আমি সবাইকে সমানভাবে দেখি। আমি এখানে কোনো সুপারস্টার নিয়ে কাজ করি না। আমরা একটি দল এবং আমি সবসময় দলের সবাইকে বিনীত ও নম্র থাকতে বলি। আমরা ধাপে ধাপে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হই এবং চ্যালেঞ্জগুলো লুফে নিই।’
গ্রুপ পর্বের হারটি সাত বছর পর ভারতের কাছে পরাজয় ছিল বাংলাদেশের। অথচ আগের দুটি সাফ জেতার পথে ভারতকে সহজেই হারিয়েছিল লাল-সবুজের দলটি। কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ভারত ফাইনাল খেলবে স্বাগতিক দর্শকের সামনে, যা তাদের উৎসাহ দেবে। বাংলাদেশের জন্য শিরোপা ধরে রাখাটা বড় চ্যালেঞ্জ। অনেকেই গ্রুপ পর্বে হারের কারণে আজকের ফাইনালে ভারতকেই ফেভারিট মানছেন।
তবে কোচ বাটলার তা মানতে নারাজ। বরং সেই ম্যাচটি ভুলে শিরোপা লড়াইয়ের দিকে মনোযোগ ব্রিটিশ কোচের, ‘আমরা মাঠের বাইরে এবং মাঠের ভেতরে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। আমাদের খেলোয়াড়দের চোট লেগেছে। তার পরও আমি বা আমরা এমন ফলাফল নিয়ে এসেছি, যেখানে সবাই আমাদের হার দেখতে চেয়েছিল বা আশা করেছিল আমরা হেরে যাব। আমি বরং গ্লাসটিকে অর্ধেক খালি না দেখে, অর্ধেক পূর্ণ হিসেবে দেখতে পছন্দ করি এবং পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক থাকতে চাই। আমরা ফাইনালে আছি– সেটি আমরা ভালো ফুটবল খেলে এসেছি নাকি বাজে ফুটবল খেলে এসেছি, তা কোনো ব্যাপার নয়। আমরা ফাইনালে আছি, এটাই সত্য।’
- বিষয় :
- সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ
