পশ্চিম তীর ‘আত্মসাৎ’ মানে ব্যাপক সংঘাত, ইসরায়েলকে জর্ডানের হুঁশিয়ারি
ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২০ | ০১:৫২ | আপডেট: ১৬ মে ২০২০ | ০২:১৫
পশ্চিম তীরকে অংশীভূত করলে ইসরায়েলকে ব্যাপক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে জর্ডান। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যখন ইসরায়েলকে ওই ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত রাখার জন্য কূটনৈতিক চেষ্টা চালাচ্ছেন, ঠিক তখনই এমন সতর্কতা উচ্চারণ করলেন বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ্। খবর আলজাজিরার।
ইসরায়েল চাইছে ইহুদি জনবসতিঅধ্যুষিত বিভিন্ন অঞ্চল ও জর্ডান উপত্যকাটি নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে নিতে। কিন্তু এর মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ফিলিস্তিন শান্তি প্রক্রিয়াটির মূলোচ্ছেদ করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনকে সুদূর পরাহত করে তোলা হবে। তবে ইসরায়েলের দুর্নীতির অভিযোগে বিচারাধীন কট্টর দক্ষিণপন্থি নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু টানা এক বছরের টানা হেঁচড়ার পর আরেকবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন এই ‘দখল প্রক্রিয়া’কে টোপ হিসেবে ব্যবহার করে, যা গোঁড়া ইহুদিদের কাছে ‘জাতীয়তাবাদী চেতনা’ নামে পরিচিত।
বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ্ শুক্রবার জার্মান পত্রিকা ডার স্পেইজেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘যেসব নেতা একরাষ্ট্রিক সমাধানের পক্ষে কথা বলছেন, তারা বুঝতে পারছেন না কী বলছেন, অথচ কী ঘটতে চলেছে।’
ফিলিস্তিনের জাতীয় কর্তৃপক্ষকে (প্যালেস্টাইনিয়ান ন্যাশনাল অথরিটি) অচল করে দিয়ে কী লাভ হবে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আগামী জুলাইতে ইসরায়েল যদি সত্যি পশ্চিম তীরকে নিজেদের অংশ করে নেয়ার দুরাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত করতে চায়, তাহলে এ অঞ্চলে সংঘাত চরমে পৌঁছাবে। জর্ডানের হাশেমি রাজ্য তা বসে বসে দেখবে না।
জর্ডান হলো পশ্চিমা শক্তিগুলোর মিত্র। তাছাড়া যে দুটো আরব রাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের শান্তিচুক্তি রয়েছে, তারা তার একটি। ইসরায়েলের আগ্রাসন তাদের মধ্যকার শান্তিচুক্তিতে কোনো বিরূপতা সৃষ্টি হবে কিনা এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি তার জবাব দেননি।
আবদুল্লাহ্ বলেন, আমি হুমকি দিতে চাই না। ভীতিকর কোনো পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টাও নেই আমার কথায়। তবে আমরা সব দিক নিয়ে বিবেচনা করে দেখছি। আমরা ইউরোপের অনেক দেশসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে একমত যে, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা ঠিক হবে না।
ওদিকে মিডলইস্ট ইন্সটিটিউটের সিনিয়র ফেলো খালেদ এলগিনডি বলেন, ইসরায়েলের পশ্চিম তীর আত্মসাতের পরিকল্পনা জর্ডানের রাজতন্ত্রের জন্য হুমকির কারণ হতে পারে। রাজা যখন নিজেই এ নিয়ে কথা বলতে শুরু করেছেন, তখন বুঝতে হবে ঘটনা গুরুতর।