সীমান্তে দক্ষিণের সঙ্গে যোগাযোগের কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে উদ্বোধন করা এই ভবনটিই গুঁড়িয়ে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ছবি : বিবিসি।
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২০ | ০৩:০০
আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক। দুই কোরিয়ার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনকারী একটি লিঁয়াজো অফিস মঙ্গলবার বোমা মেরে গুঁড়িয়ে দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ওই কার্যালয় ভবনটি দুই দেশের সীমান্তের উত্তর কোরিয়া অংশে অবস্থিত।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তরের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানোর নতুন একটি বিবৃতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লিঁয়াজো অফিস গুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে পারস্পারিক যোগাযোগ বাড়াতে ২০১৮ সালে ওই লিঁয়াজো অফিসটির উদ্বোবধন করা হয়েছিল। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেখানে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ভবনটি ফাঁকা পড়ে ছিল।
দক্ষিণ কোরিয়া থেকে উত্তর কোরিয়াবিরোধী লিফলেট, বেলুনবার্তা পাঠানোকে কেন্দ্র করে কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উনের বোন কিম ইয়ো-জং।
সরকারিভাবে না হলেও উনের শীর্ষ সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন ইয়ো-জং। সর্বোচ্চ নেতার পরই ইয়ো-জংকে উত্তর কোরিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়।
শনিবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম কেসিএনএ-তে বিবৃতি পাঠিয়ে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়েছিলেন ইয়ো-জং। এতে তিনি লিঁয়াজো অফিসটি গুঁড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছিলেন। এর আগে, গত সপ্তাহে দুই দেশের নেতাদের যোগাযোগের হটলাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় উত্তর কোরিয়া।
দক্ষিণ কোরিয়ার পুনঃএকত্রীকরণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৯ মিনিটে উত্তর কোরিয়ার কাইসংয়ে অবস্থিত লিঁয়াজো অফিসে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
দুই বছর আগে উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন-জায়ে-ইনের যৌথ আলাপ আলোচনার পর কাইসংয়ে ওই লিঁয়াজো অফিসটি স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
সিউলের এভা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিফ-এরিক ইজলে বলেছেন, কাইসংয়ের যোগাযোগ কার্যালয়টি গুঁড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে আন্তঃকোরীয় পুনর্মিলন এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রতীকি আঘাত হেনেছে উত্তর কোরিয়া। এর মাধ্যমে কিম জং-উন বিশ্ব নেতাদের কাছ থেকে কী আদায় করতে পারবেন তা বলা কঠিন। তবে এতে নিজ দেশে কিমের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ায় নিজের শক্তি জানান দেওয়ার কৌশল হিসেবে বর্তমানে এসব তৎপরতা শুরু করেছে উত্তর কোরিয়া।