ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

রামায়ণ সভ্যতার কোনো শক্ত ভিত্তি নেই: নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রামায়ণ সভ্যতার কোনো শক্ত ভিত্তি নেই: নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
×

ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২০ | ০১:৫৬

হিন্দুদের পৌরানিক কাহিনির অন্যতম চরিত্র রাম ভারতীয় নন, তিনি একজন নেপালি—এরকম দাবি করে বিতর্ক উস্কে দেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি। পরস্পরের ভূমি নিজ নিজ মানচিত্রভুক্ত করার যে টানাপড়েন তৈরি  হয়েছে প্রতিবেশী দুটি হিন্দুপ্রধান রাষ্ট্রের মধ্যে, ধর্মীয় একজন ব্যক্তিত্বের অস্তিত্ব নিয়ে এরকম তর্কবিতর্ক তাতে উত্তেজনার ইন্ধন যোগাচ্ছে এখন। বুধবার নেপালের পররাষ্টমন্ত্রী প্রদীপ গিওয়ালি নিজ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সমর্থনে এগিয়ে এসে বুধবার রামায়ণ সভ্যতার আদৌ কোনো ভিত্তি আছে কিনা, তা নিয়ে নিজের সন্দেহের কথা প্রকাশ করলেন। 

 দু-দিন আগেই ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম ‘অ্যাজেন্ডা’ রামজন্মভূমিকে নেপালের বলে দাবি করে বিতর্ক উসকে দেন কেপি শর্মা অলি। অলির দাবি, 'রাম আদতে একজন নেপালি। রামের আসল জন্মভূমি অযোধ্যাও ভারতে নয়, নেপালে। কাঠমান্ডুর কাছে সেই ছোট্ট গ্রাম অযোধ্যা। সেখানেই জন্ম হয়েছিল রামের।' অলি বলেন, 'আমরা বিশ্বাস করি সীতা আমাদের দেশের, রামও এই দেশের। যে অযোধ্যায় রাম জন্মেছিল, সেই গ্রাম নেপালে, ভারতে নয়। নেপালের বীরগঞ্জ জেলা থেকে সামান্য পশ্চিমে ছোট্ট গ্রাম-- অযোধ্যা।

ভারতীয় ভূখণ্ডকে নেপালের বলে দাবি করে ভারতের সঙ্গে আগেই সংঘাত বাড়িয়েছেন অলি। উত্তরাখণ্ডের লিপুলেখ পাস, লিম্পিয়াধুরা এবং কালাপানি এলাকাকে নেপাল তাদের মানচিত্রে নিজেদের বলে দাবি করেছে। গত মাসেই সংসদে মানচিত্রের সংশোধনী সর্বসম্মত ভাবে আইনসভায় পাশ করায় নেপাল সরকার। নেপালের এই দাবি খারিজ করে দিয়েছে ভারত সরকার। নয়াদিল্লির তরফ থেকে কড়া বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, 'ভারতের এই অবস্থান সম্পর্কে নেপাল যথেষ্ট অবগত। নেপাল সরকার যেন এ ধরনের দাবি থেকে নিজেদের বিরত রাখে। ভারতের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতাকে যেন সম্মান করে।'

রাজনৈতিক বা ভৌগোলিক বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখনই নেপালি প্রধানমন্ত্রী রামবিতর্ক সামনে নিয়ে এলেন। আর তার সঙ্গে গলা মিলিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীও। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে বলেন, আমরা জেনেছিলাম সীতার জন্ম জনকপুরে। আর রাম জন্মেছিলেন অযোধ্যায়। কিন্তু, যেদিন গবেষণা এর বাইরে অন্য কিছু প্রমাণ করবে, সেদিন রামায়ণের ইতিহাস নিজেই বদলে যাবে।

অবশ্য তিনি এও বলেন, ‘বিষয়টির সঙ্গে বহু মানুষের আবেগজড়িত। তাই এ বিষয়ে খুব বেশি কথা বলে বিতর্ক বাড়াতে চাই না। তবে যতদূর বুঝতে পেরেছি, রামায়ণ সভ্যতার প্রত্নতাত্ত্বিক অধ্যয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনও আমাদের কাছে নেই। প্রচলিত বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে আমরা বলে আসছি, সীতা জনকপুরে জন্মেছিলেন। অযোধ্যায় রামচন্দ্রের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। 

প্রদীপ গিওয়ালি বলেন, রামায়ণের সাংস্কৃতিক ভূগোল এখনও চূড়ান্ত হয়নি। আমাদের কাছে গৌতম বুদ্ধ সম্পর্কে লিখিত এবং অন্যান্য ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়ার মতো প্রমাণ রয়েছে। রামায়ণের ক্ষেত্রে তা নেই। সূত্র : ইন্ডিয়া টাইমস।

আরও পড়ুন

×