ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সুনামি আঘাত হানে কেন

সুনামি আঘাত হানে কেন
×

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৫ | ০৩:৫৭

রাশিয়ার পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর জাপানে সুনামি (সামুদ্রিক ঢেউ বা জলোচ্ছ্বাস) আঘাত হেনেছে। দেশটির উত্তরাঞ্চলের হোক্কাইডোর হানাসাকি বন্দরে প্রথম ঢেউ আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে শুধু কম্পনের ভয় নয়, সবার বড় আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়ায় ‘সুনামি’। কিন্তু কেন এটি হয়?

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সাধারণ সমুদ্রের ঢেউ মূলত বাতাসের প্রভাবে পানির উপরিভাগে সৃষ্টি হয়। কিন্তু সুনামির তরঙ্গ জন্ম নেয় গভীর সমুদ্রের তলদেশে, যেখানে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা ভূমিধস হঠাৎ করে বিশাল জলরাশি একসঙ্গে সরিয়ে দেয়। এই পানির স্তম্ভ যখন সরতে শুরু করে, তখন তার শক্তি হয়ে ওঠে ধ্বংসাত্মক। অনেক সময় ঢেউয়ের উচ্চতা মাত্র কয়েক মিটার হলেও এর গতি, চাপ ও বিস্তৃতির কারণে তা নিমেষেই উপকূলীয় এলাকা গিলে নিতে পারে।

পৃথিবীর বাইরের আবরণটি টেকটোনিক প্লেট নামের আবরণে তৈরি। এগুলো অনেকটা পাজলের টুকরোর মতো। এই প্লেটগুলো খুবই ধীরে ধীরে চলে। সব মিলিয়ে এক বছরে এগুলোর অবস্থান মাত্র কয়েক সেন্টিমিটার পরিবর্তন হয়। হাতের নখ যতটা ধীরে বড় হয়, এই প্লেটগুলো ততটুকু ধীরেই চলে। প্লেটগুলো যেহেতু একে অপরের বিরুদ্ধে চলে। তাই এগুলো মাঝে মাঝে আটকে যায়। সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তখন সেখানে চাপ সৃষ্টি হয়। চাপ যখন অনেক বাড়ে, এই প্লেটগুলো আকস্মিকভাবে তাদের আগের অবস্থানে ফিরে যায়। এই ফিরে যাওয়ার বিষয়টি প্রচুর শক্তি অর্জন করে। এতে করে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। যখন সমুদ্রের নিচে ভূমিকম্প হয়, তখন এটির প্রভাবে পানি সব দিকে ছড়িয়ে যায়। যার প্রভাবে সুনামির সৃষ্টি হয়, যা উপকূলে আছড়ে পড়ে। সুনামি হলো সামুদ্রিক ঢেউ, যা ভূমিকম্প অথবা সমুদ্রের নিচে ভূমিধসের কারণে সৃষ্টি হয়। সুনামি একটি জাপানি শব্দ।

সুনামির সৃষ্টি হলে উপকূলে একের পর এক শক্তিশালী বড় ঢেউ আঘাত হানতে থাকে। এই ঢেউগুলো গভীর সমুদ্রে গড়ে ৪৫০ থেকে ৬০০ মাইল বেগে ছুটতে পারে। 

বিশ্বজুড়ে প্রায় ৪০ কোটি মানুষ উপকূলীয় এলাকায় বাস করেন, যারা সুনামির ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। তাই আগাম সতর্কতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক যুগে বিজ্ঞানীরা বুয়ি সেন্সর, স্যাটেলাইট, ভূকম্পন পরিমাপক ও কম্পিউটার মডেলিং ব্যবহার করে আগাম সুনামি সতর্কতা দিতে পারছেন।

তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি না থাকলে সতর্কতা যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলের জন্য, যেটি প্রশান্ত মহাসাগরের চারদিকে বিস্তৃত, যেখানে একাধিক সক্রিয় টেকটোনিক প্লেট রয়েছে– সে এলাকাগুলোতে সুনামির সম্ভাবনা সব সময় বেশি।

তবে খোলা সমুদ্রে থাকা জাহাজগুলো সুনামি হলে সেটি টের পায় না। কারণ, সমুদ্রে সুনামির ঢেউগুলো অনেক বড় এবং মাত্র কয়েক ফুট উঁচু হয়। এ ছাড়া আকাশ থেকেও সুনামি দেখা যায় না। খবর বিবিসি, ব্রাউন্সভিলের।

আরও পড়ুন

×