ভারতের সঙ্গে উৎপাদিত অস্ত্র ব্যবহার করছে ইসরায়েল
গাজা সিটির রিমাল এলাকায় অপরিচিত সৈনিক টাওয়ারে রাতভর বোমা হামলা চালায় ইসরায়েল। সোমবার বিধ্বস্ত টাওয়ারের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে অক্ষত জিনিস উদ্ধারের চেষ্টা করছেন ফিলিস্তিনিরা। ছবি: এএফপি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:২২
গাজায় ফিলিস্তিনিদের হত্যায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) পরিচালিত স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করছে ইসরায়েল। এসব অস্ত্র যৌথভাবে তৈরি করেছে ইসরায়েল ওয়েপনস ইন্ডাস্ট্রিজ ও ভারতের আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস।
মিডল ইস্ট আইয়ের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর প্রকাশিত হয়।
ফিলিস্তিনি ছিটমহল গাজায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চালানো ভয়াবহ অভিযানে ইসরায়েলি সেনারা ব্যবহার করছে আরবেল নামে নতুন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-চালিত অস্ত্র ব্যবস্থা।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে, এই অস্ত্রকে বলা হচ্ছে ‘অপারেটরের প্রাণঘাতী ক্ষমতা ব্যবহারের পরও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়ায় এমন বিপ্লবী প্রযুক্তি।’ এ প্রযুক্তি এটি টাভোর, কারমেল ও নেগেভের মতো স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রকে এমন এক সিস্টেমে রূপ দেয়, যেখানে অ্যালগরিদমের সাহায্যে লক্ষ্যভেদ আরও নির্ভুল ও কার্যকর হয়।
আরবেল নামটি বাইবেল থেকে নেওয়া হলেও এটি সেই শহরের নাম, যা ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিনি গ্রাম হিত্তিন দখল করে গড়ে তোলা হয়েছিল। এই অস্ত্রের প্রথম ঘোষণা দেওয়া হয় ২০২২ সালের অক্টোবরে গুজরাটের গান্ধীনগরের এক প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে। সেখানে এটিকে উপস্থাপন করা হয়েছিল ইসরায়েল ওয়েপনস ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ভারতের আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেসের যৌথ উদ্যোগ হিসেবে।
২০২৪ সালের এপ্রিলে গাজার যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল আবার অস্ত্রটি প্রদর্শন করে এবং তখন একে বলা হয় প্রথম কম্পিউটারাইজড অস্ত্র ব্যবস্থা। সেখানে আদানির নাম উল্লেখ করা হয়নি। ধারণা করা হয়, যন্ত্রাংশ উভয় পক্ষ মিলেই তৈরি করেছে, তবে সংযোজন হয়েছে ইসরায়েলে। আদানির নাম বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে যুদ্ধকালীন জনরোষ এড়ানো বা ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা এলে দায় এড়ানো।
ভারতের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক গিরিশ লিঙ্গান্না বলেছেন, আরবেল আধুনিক যুদ্ধে এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা দেখায়, তবে এর প্রাণঘাতী ক্ষমতা ও অপব্যবহারের ঝুঁকি নৈতিক দিক থেকে ভয়াবহ। ফিলিস্তিনকে কীভাবে ইসরায়েল প্রকৃত অস্ত্র পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করছে, তা নিয়ে ‘দ্য প্যালেস্টাইন ল্যাবরেটরি’ বইয়ের লেখক সাংবাদিক অ্যান্টনি লোয়েনস্টাইন বলেন, ‘গাজায় সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করাই ছিল উদ্দেশ্য, হামাসকে নয়। আমি সরাসরি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলেছি।’ এটি ভয়াবহ বলেন তিনি।
লন্ডনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের (রুসি) গবেষক নোয়া সিলভিয়া মনে করেন, দক্ষতার নামে এসব অস্ত্র আসলে ধ্বংসযজ্ঞ আরও বাড়ায়। তাঁর মতে, ইসরায়েলি সেনারা যেভাবে শিশুদের টার্গেট করছে, তাতে আর্বেল শিশুহত্যার প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করছে।
