ভারতের কেরালায় বাড়ছে ‘মস্তিষ্ক-খেকো’ অ্যামিবার সংক্রমণ, সতর্কতা জারি
ফটোমাইক্রোগ্রাফে ‘প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিস’–এর বৈশিষ্ট্য। ছবি: সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৯:৩৬ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২০:২১
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কেরালায় পানিবাহিত বিরল অ্যামিবার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। যেটিকে চিহ্নিত করা হচ্ছে ‘ব্রেইন-ইটিং’ বা ‘মস্তিষ্ক-খেকো’ হিসেবে। এতে সংক্রমিত হয়ে চলতি বছর ১৯ জন মারা গেছেন।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ রাজ্যটিতে সম্প্রতি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাতে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিন মাস বয়সী শিশুসহ ১৯ জন মারা গেছেন। গত বছরের তুলনায় মৃত্যুর হার প্রায় দ্বিগুণ।
এসব রোগীরা ‘নিগ্লেরিয়া ফাউলেরি’ অ্যামিবার সংস্পর্শে যাওয়ার পর ‘প্রাইমারি অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিসে’ সংক্রমিত হন। গত বছর এমন ৩৬ জন রোগী শনাক্ত হন। মারা যান ৯ জন।
অ্যামিবা মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। এটি সাধারণত দূষিত মিঠা পানির জলাশয়, লেক ও নদীতে থাকে। এই দূষিত পানি নাক দিয়ে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করলে মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের সংক্রমণ খুবই বিরল হলেও প্রায় সবক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী। স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো এই অ্যামিবাকে ‘ব্রেইন-ইটিং’ বলেন। কারণ, এটি মস্তিষ্কের টিস্যু ধ্বংস করে। এতে আক্রান্ত হলে মৃত্যুর সম্ভাবনা ৯৫ শতাংশ।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে কেরালার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ভীণা জর্জ বলেন, গত বছর আক্রান্তরা ছিলেন নির্দিষ্ট এলাকার। কিন্তু এবারের আক্রান্তরা ভিন্ন ভিন্ন স্থানের। এ কারণে তদন্তকাজ কঠিন হয়েছে।
কেরালা সরকার এরই মধ্যে কূপ, পানির ট্যাংক ও যেখানে অনেক মানুষ একসঙ্গে গোসল করেন সেসব জলাশয়ে ক্লোরিন (পানির জীবাণুনাশক) মেশাতে শুরু করেছে। সরকারি টাস্কফোর্সের একজন চিকিৎসক জানান, আক্রান্তের সংখ্যা কম হলেও বিস্তার রোধে রাজ্যজুড়ে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।
আলতাফ আলী নামের ওই চিকিৎসক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, চলতি বছর আক্রান্তরা রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছে। আগের বছর সংক্রমণ নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল। ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে যাওয়াটা উদ্বেগের।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, আক্রান্তদের উপসর্গগুলোর মধ্যে আছে মাথাব্যথা, জ্বর ও বমি। যা এক সময় খিঁচুনি, মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ও হ্যালুসিনেশনে রূপ নেয়।
কেরালায় প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত হয় ২০১৬ সালে। ১৯৬২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সারা বিশ্বে প্রায় ৫০০টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এগুলোর বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ায়।
