নিজেদের রাজ্যে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর হামলা, নিহত ৩০
নিক্ষিপ্ত ৮টি বোমায় নিহত হয়েছেন নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩০ জন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৯:৫৩ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২০:১৭
পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য খাইবার পাখতুনখোয়ায় বিমানবাহিনীর অভিযানে নিক্ষিপ্ত ৮টি বোমায় নিহত হয়েছেন নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩০ জন। নিহতদের সবাই বেসামরিক। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর বরাতে জানা গেছে, আহতও হয়েছেন বেশ কয়েক জন। তবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও জানা যায়নি।
এক বিবৃতিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, সোমবার খাইবার পাখতুনখোয়ার তিরাহ উপত্যকার মাত্রে দারা গ্রামে পরিচালিত এ অভিযানে ৮টি এলএস-৬ বোমা নিক্ষেপ করেছে বিমান বাহিনী। সূত্র : এএফপি
অভিযানের পরবর্তী মাত্রে দারা গ্রামের কিছু ছবি ও ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সেসব ছবি ও ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপ থেকে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করছে উদ্ধারকারী বাহিনী। নিহত এবং আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
খাইবার পাখতুনখোয়া রাজ্যটি পাকিস্তানের তালেবানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ঘাঁটি অঞ্চল। সন্ত্রাসী হামলা ও তৎপরতার জন্য বেশ কয়েক বছর আগে গোষ্ঠীটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ইসলাবা
২০২১ সালের আগস্টে কাবুলে তালেবানপন্থী সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর খাইবার পাখতুনখোয়ায় ঘটে টিটিপির তৎপরতার। একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা ঘটাতে থাকে টিটিপি। পাকিস্তানের পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বেসামরিক লোকজন হয়ে ওঠে এসব হামলার লক্ষ্য। রাজ্য পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন জেলায় মোট ৬০৫টি ছোটো-বড় সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। এসব হামলা প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৩৮ জন বেসামরিক এবং ৭৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য। আহত হয়েছেন আরও কয়েক শ’ বেসামরিক, পুলিশ ও সেনা। গত আগস্ট মাসেই ঘটেছে ১২৯টি সন্ত্রাসী হামলা।
সোমবার এক বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের আঞ্চলিক উপপরিচালক ইসাবেলে ল্যাসি বলেছেন, “দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ উচ্ছেদ এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা— দু’টি ক্ষেত্রেই পাকিস্তানের পারফরম্যান্স হতাশাজনক।”
- বিষয় :
- বোমা হামলা
- নিহত
- পাকিস্তান
- বিমান বাহিনী
