ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

বিহারে নির্বাচন

ভোট টানতে সামাজিক ও ধর্মীয় কৌশলেই অনড় দলগুলো

ভোট টানতে সামাজিক ও ধর্মীয় কৌশলেই অনড় দলগুলো
×

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৫ | ১৩:১৫

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য বিহারে দুই দফার বিধানসভা নির্বাচন আগামী ৬ নভেম্বর শুরু। ফলে নির্বাচন ঘিরে এখন রাজ্যজুড়ে চলছে রাজনৈতিক দলগুলোর তুমুল প্রচারণা। প্রতিদিনই চলছে মিছিল, সভা ও সমাবেশ। প্রার্থীদের মধ্যে জমে উঠেছে কথার লড়াই। তবে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রচার ও ইশতেহারে নতুন কিছু তুলে ধরতে না পারায় হতাশা বাড়ছে। গতকাল শুক্রবার ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিহারে নির্বাচন ঘিরে রাজ্যের জটিল জাতিগত সমীকরণ অব্যাহত আছে। ভোট টানতে রাজনৈতিক দলগুলো সেই পুরোনো সামাজিক শ্রেণি ও ধর্মীয় কৌশল ব্যবহারে অনড় রয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিগত সমীকরণ এবং সামাজিক প্রকৌশল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় ভোট টানতে বিজেপি এবং জনতা দল (জেডি) থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) পর্যন্ত সবাই চিরাচরিত ও পরীক্ষিত কৌশলগুলো আঁকড়ে ধরেছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের জেডি ফের ক্ষমতায় ফেরার লক্ষ্যে দলিতসহ সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রেণিগুলোর ওপর নির্ভর করছে।

অন্যদিকে, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ও রাজ্যে বিরোধী অবস্থানে থাকা বিজেপি এখনও নির্ভর করছে তাদের কথাকথিত সামাজিক উচ্চবর্ণের ওপর। আবার কংগ্রেসের জোট সঙ্গী সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বাধীন আরজেডির ভরসা তাদের ঐতিহ্যবাহী মুসলিম ও যাদব ভোটব্যাংকের ওপর। মূলত বিভিন্ন আসনে দলগুলোর প্রার্থী মনোনয়ন দেখলেই বোঝা যায়, কেউই তাদের চিরাচরিত সমর্থন ভিত্তি থেকে সরে আসেনি। যেমন বিজেপি তার প্রায় ৪৮.৫ শতাংশ মনোনয়ন দিয়েছে উচ্চবর্ণের প্রার্থীদের। অন্যদিকে, আরজেডি তার ঐতিহ্যবাহী মুসলিম-যাদবভিত্তিক ৪৯ শতাংশ মনোনয়ন টিকিট দিয়েছে।
রাজ্যের মোট ২৪৩টি আসনের মধ্যে ১০১টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিজেপি উচ্চবর্ণের অন্তত ৪৯ জনকে প্রার্থী করেছে। যার মধ্যে রাজপুত, ভূমিহার, ব্রাহ্মণ এবং কায়স্থ শ্রেণির লোকেরা রয়েছেন। বিপরীতে আরজেডি এবার যে ১৪৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, এর মধ্যে যাদব উপাধির ৫১টি এবং মুসলমানদের ১৯টি টিকিট দিয়েছে।

২০২০ সালেও বিহারের নির্বাচনে একই রকমভাবে সামাজিক ও ধর্মীয় শ্রেণির লোকদের মনোনয়ন দিয়েছিল দলগুলো। বিহারের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাজ্যের দলগুলো সাধারণত প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ায় বড় ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এড়িয়ে চলে। পাটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ফ্যাকাল্টি সদস্য এন কে চৌধুরী বলেন, বিহারের ক্ষেত্রে চিরাচরিত ও পরীক্ষিত ফর্মুলাগুলোই সাধারণত কার্যকর হয়। যেমন– লালু প্রসাদ জানেন, মুসলমান ও যাদব উপাধির লোকেরা তাঁকেই সমর্থন দেবে। নীতীশ কুমার কয়েক দশক আগে সমাজের অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া শ্রেণির ওপর বেশি নির্ভর করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছিলেন। কিন্তু এখন তিনিও সতর্কভাবে হাঁটছেন এবং তাঁর ঐতিহ্যবাহী ভিত্তিকে আঁকড়ে ধরে আছেন।

আরও পড়ুন

×