ফিলিপাইনের দিকে ধেয়ে যাচ্ছে সুপার টাইফুন, ঘরছাড়া লাখো মানুষ
ঝড়ের আগে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। রোববার ফিলিপাইনে। ছবি: এএফপি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | ১৫:৪৪ | আপডেট: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | ১৫:৫৪
আরেকটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কায় ফিলিপাইনে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুঁটছেন লাখো মানুষ। কয়েকদিন আগের টাইফুন ‘কালমায়েগি’তে দেশটির দুই শতাধিক বাসিন্দা প্রাণ হারান। নতুন ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফাং-ওং’। স্থানীয় সময় রোববার থেকেই উপকূলে এর তাণ্ডব শুরু হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ঝড়ের শঙ্কায় ঘরবাড়ি ছেড়েছেন প্রায় দশ লাখ মানুষ। ঝড়ের মূল আঘাতের আগেই বিভিন্ন এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করে বলেছে, কিছু এলাকায় মানুষের জীবন উচ্চ ঝুঁকিতে আছে।
ফিলিপাইনের আবহাওয়া, ভূ-পদার্থ ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগ (পিএজিএএসএ) জানিয়েছে, ফাং-ওং এর স্থানীয় নাম ‘উওয়ান’। রোববার রাতের দিকে এটি অরোরা প্রদেশে আঘাত হানতে পারে। ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার (১১৫ মাইল)। দমকা হাওয়ার বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার (১৪৩ মাইল)।
সংস্থাটি ফিলিপাইনের দক্ষিণ-পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলে ঝড়ের উচ্চ সতর্কতার স্তর (সিগনাল-৫) জারি করেছে। ম্যানিলা ও আশপাশের এলাকাগুলোয় সতর্কতার স্তর ৩। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ অঞ্চল ঝড়ের কবলে পড়তে পারে। বর্তমানে এটি প্রশান্ত মহাসাগর থেকে ফিলিপাইনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গত মঙ্গলবার টাইফুন কালমায়েগির প্রভাবে দ্বীপ দেশটির অন্তত ২২৪ বাসিন্দা মারা যান।
ফাং-ওং এর সম্ভাব্য বিপর্যয়ের শঙ্কায় জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র।
সাধারণত, উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চল, প্রশান্ত মহাসাগরের একাংশ, ক্যারিবিয়ান সাগর ও মেক্সিকো উপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়কে হারিকেন বলা হয়। প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঝড়কে টাইফুন এবং আরব ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঝড়কে বলা হয় সাইক্লোন। ফিলিপাইনের নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ঘূর্ণিঝড়ের স্থায়ী বেগ ঘণ্টায় ১৮৫ কিলোমিটার (১১৫ মাইল) বা এর বেশি হয় সেগুলো হলো ‘সুপার টাইফুন’।
