ইসরায়েলের আগ্রাসন
গাজায় ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে টনি ব্লেয়ার
ডাক পেল আর্জেন্টিনা, তুরস্ক ও মিসর
টনি ব্লেয়ার
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৮:৩৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
গাজা শান্তি পর্ষদে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী হিসেবে মনোনীত করেছে মার্কিন প্রশাসন। হোয়াইট হাউস শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনারও প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী হিসেবে থাকছেন। ইরাক যুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকা রাখায় টনি ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধী’ তকমা আছে। এরপরও তাঁকে শান্তি পর্ষদে রাখায় বিতর্ক উঠেছে। বিবিসি ও আলজাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবিসি জানায়, ট্রাম্প নিজেই বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করবেন। এই পর্ষদ ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য তার ২০-দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করবে। প্রাথমিকভাবে এই পর্ষদ গাজার পরিচালনা ও এর পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
শান্তি পর্ষদের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী হিসেবে বেসরকারি ইকুইটি ফার্মের প্রধান মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রধান অজয় বাঙ্গা এবং মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েলও রয়েছেন। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বোর্ডের প্রতিটি সদস্যের একটি পোর্টফোলিও থাকবে, যা গাজার স্থিতিশীলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের
জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে বৃহস্পতিবার ট্রাম্প শান্তি পর্ষদ গঠনের কথা জানান দেন। তিনি এটাকে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ পর্ষদ বলে অভিহিত করেছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বোর্ডের আরও সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানায় হোয়াইট হাউস।
কানাডার গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে পর্ষদে যোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়া শান্তি পর্ষদে আমন্ত্রণ পেয়েছে আর্জেন্টিনা, তুরস্ক ও মিসর।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজার নিরাপত্তার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক বাহিনীর প্রধান করা হয়েছে মার্কিন মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্সকে। তিনি গাজার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা, শান্তি রক্ষা এবং টেকসই ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করবেন। এ ছাড়া ‘গাজা নির্বাহী বোর্ড’ নামে একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে, যা শান্তি পর্ষদকে সমর্থন করবে। এই বোর্ডেও কিছু লোককে নিয়োগ করা হবে।
এক বিবৃতিতে টনি ব্লেয়ার বলেন, ‘পর্ষদে নিযুক্ত হতে পেরে তিনি সম্মানিত। উইটকফ ও কুশনারের সঙ্গে কাজ করা সৌভাগ্যের ব্যাপার। সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’ তিনি নির্বাহী বোর্ডের একমাত্র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য যিনি মার্কিন নাগরিক নন।
অন্যদিকে টনি ব্লেয়ার নানা কারণে বিতর্কিত একজন মানুষ। তাঁকে শান্তি পর্ষদে রাখায় বিতর্ক উঠেছে। ২০০৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাক আক্রমণ এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রের মিথ্যা দাবির ভিত্তিতে ইরাক দখলের সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থাকা ব্লেয়ারকে আরব বিশ্ব এবং যুক্তরাজ্যের অনেকেই ‘যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে বিবেচনা করেন।
শান্তি পর্ষদ ‘ইসরায়েল-বান্ধব’
সাংবাদিক এবং আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের সহপরিচালক রামি খুরি গাজা বোর্ড গঠনের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, শান্তি পর্ষদ অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট। এটি ইসরায়েলের পক্ষে কাজ করবে। তিনি আলজাজিরাকে বলেন, এই পর্ষদ ফিলিস্তিনিদের অধিকারের ব্যাপারে ‘সম্পূর্ণ অন্ধ’ হবে বলে মনে হচ্ছে।
খুরি বলেন, পর্ষদ সদস্যরা ইসরায়েলের প্রতি গভীরভাবে অনুগত। তাদের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি অধিকারের প্রতি নিরপেক্ষ থাকা সম্ভব না। এখানে কোনো আশা নেই। তিনি বলেন, এই উদ্যোগটি ইতিহাসের ‘বেলফোর ঘোষণার সমতুল্য’।
- বিষয় :
- ইসরায়েলের আগ্রাসন
