ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সীমান্তে আফগান তালেবানের হামলা, পাল্টা জবাবের দাবি পাকিস্তানের

সীমান্তে আফগান তালেবানের হামলা, পাল্টা জবাবের দাবি পাকিস্তানের
×

ছবি: দ্য ডন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০২:০৩

গত সপ্তাহান্তে চালানো পাকিস্তানি বিমান হামলার পাল্টা জবাবে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দেশটির সীমান্তের সামরিক ফাঁড়িগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে আফগান তালেবান। এই ‘উসকানিমূলক’ গুলিবর্ষণের জবাবে তাৎক্ষণিক ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন সেক্টরে সীমান্ত অতিক্রম করে গুলি চালানো হয়।  

বিবৃতিতে বলা হয়, চিত্রাল, খাইবার, মোহমান্দ, কুররম ও বাজৌর সেক্টরে আফগান বাহিনীর পদক্ষেপের জবাবে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা অভিযান চালাচ্ছে। প্রাথমিক তথ্যে আফগান পক্ষের একাধিক চৌকি ও সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাপক হতাহতের দাবি করা হয়েছে। 

পাকিস্তানি কোনো চৌকি দখল বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলেও এতে জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, পাকিস্তানি কোনো সেনা নিহত বা আটক হয়নি। ‘যে কোনো আগ্রাসনের জবাব তাৎক্ষণিক ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে’, বলেন তিনি।

নিরাপত্তা সূত্রগুলোর দাবি, পাল্টা হামলায় সীমান্তের ওপারে তালেবানের কয়েকটি অবস্থান লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করা হয়েছে। বাজৌর ও চিত্রাল সীমান্তসংলগ্ন অন্তত দুটি আফগান পোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

খাইবারের লান্ডি কোটাল এলাকা থেকে স্থানীয় সূত্র জানায়, বাজার–জাখাখেল অঞ্চলের মারো সার ও শাহকোট সার সীমান্তচৌকিতে আফগান পক্ষ গোলাবর্ষণ করে। দুটি মর্টার শেল আবাসিক এলাকার কাছে খোলা জায়গায় পড়লেও হতাহত হয়নি। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে গোলাগুলি শুরু হয়ে রাত পর্যন্ত চলতে থাকে। বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।

আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের অন্ধকারে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে হামভি সামরিক যান চলছে, বন্দুকের গুলি ঝলকে উঠছে। ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে বৃষ্টির মতো স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলির শব্দ এবং আগুনের ঝলকানি দেখা গেছে। তবে রয়টার্স স্বতন্ত্রভাবে এই ভিডিওর সত্যতা বা সময় যাচাই করতে পারেনি।

আফগানিস্তানের তালেবান প্রশাসনের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছেন, ‘পাকিস্তানি সামরিক মহলের বারবার উস্কানি ও আইন লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়ায় ডুরান্ড লাইন বরাবর তাদের বিভিন্ন সামরিক অবস্থান ও স্থাপনায় বড় ধরনের আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, সীমান্তে এই সংঘর্ষের কয়েক দিন আগে আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে ‘সন্ত্রাসী ঘাঁটি’ লক্ষ্য করে রাতভর হামলা চালায় পাকিস্তান। পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী সেনেটে বলেন, ওই অভিযানে ১০০ জনের বেশি জঙ্গি নিহত হতে পারে।

তথ্য মন্ত্রণালয় তখন দাবি করে, ইসলামাবাদে ইমামবারগাহে আত্মঘাতী হামলা এবং বান্নু ও বাজৌরে একাধিক হামলার জবাব দিতেই এসব ‘গোয়েন্দাভিত্তিক নির্দিষ্ট অভিযান’ চালানো হয়। সূত্র: দ্য ডন

আরও পড়ুন

×