বড় সংঘাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তান
কাবুল, কান্দাহার, পাতকিয়ায় পাকিস্তানের বিমান হামলা
গাড়িতে রকেট লঞ্চার নিয়ে সতর্ক অবস্থানে তালেবান সেনারা। গতকাল আফগানিস্তানের তোরখাম সীমান্ত এলাকায় (বাঁয়ে), পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার বাজাউর এলাকার হাসপাতালে আহত এক তরুণী -এএফপি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:০২ | আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৯:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে তালেবান সরকারের বাহিনীর ওপর রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার রাতের এ হামলায় অন্তত ২৭৪ জন তালেবানযোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ ‘সরাসরি যুদ্ধ’ ঘোষণা করে এ হামলা চালান। এটি তাদের প্রতিবেশী ও সাবেক মিত্র দেশে প্রথম সরাসরি বড় ধরনের হামলা। পাকিস্তানেরও ‘কয়েক ডজন সেনা’ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তালেবান।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে গতকাল শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও তালেবান নেতৃত্বের ঘাঁটি কান্দাহারের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় পাকিস্তান। এ ছাড়া পাকতিয়া প্রদেশে তালেবানের সামরিক কার্যালয় ও চৌকিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেন, ‘আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। এখন আমাদের ও তোমাদের (আফগানিস্তান) মধ্যে এটি সরাসরি যুদ্ধ।’
তবে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বলেছে, আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে। গতকালও সন্ধ্যার পর সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি হয়েছে। বিবিসি লিখেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কাবুল জোরালো বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে। শহরজুড়ে জেট বিমানের শব্দসহ বিস্ফোরণ শোনা যায়। রাত প্রায় সাড়ে ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় গুলির শব্দ শোনা গেছে।
পরে গতকাল সন্ধ্যায় পাকিস্তান থেকে আবারও হামলা শুরু হয় বলে বিবিসিকে নিশ্চিত করেন আফগানিস্তানের খোস্ত এলাকার তালেবান সরকারি কর্মকর্তারা। তালেবান সরকারের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের মানসুরি কর্পসের মুখপাত্র আব্দুল হক ফিদা বলেন, ‘ইফতারের বিরতির পর খোস্ত ও ট্যাঙ্ক এলাকায় আবারও অভিযান শুরু হয়েছে। লড়াই চলছে।’ তিনি জানান, খোস্ত প্রদেশের জাজাই ময়দান, আলিশার ও তেরেজ জেলায় পাকিস্তানের সামরিক পোস্টগুলোতে আফগান বাহিনী পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে।
আলজাজিরা জানিয়েছে, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। গতকাল তিনি দেশটির সেনাসদর পরিদর্শন করে বলেন, আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের যে কোনো অপতৎপরতায় ইসলামাবাদের নীতি ‘জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা)। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী সবসময় দেশ রক্ষার জন্য প্রস্তুত। শাহবাজ বলেন, পাকিস্তান জানে কীভাবে যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করতে হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, তাঁর দেশের বাহিনী ‘যে কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নস্যাৎ করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।’ পাকিস্তান সরকারের এক্স অ্যাকাউন্টে একাধিক পোস্টে তিনি বলেন, ‘প্রিয় মাতৃভূমির রক্ষায় কোনো আপস হবে না। প্রতিটি আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।’ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর উদ্ধৃতি দিয়ে রয়টার্স জানায়, শাহবাজ শরিফের নির্দেশনায় তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে এ অভিযান চলছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি দাবি করেন, তাদের হামলায় এ পর্যন্ত আফগান তালেবানের ২৭টি সামরিক পোস্ট ধ্বংস এবং অন্য ৯টি দখল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ৮০টির বেশি ট্যাঙ্ক, আর্টিলারি ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বৃহস্পতিবার রাতে ১৯টি পাকিস্তানি সামরিক পোস্ট এবং দুটি ঘাঁটি দখল করেছে। এতে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। তবে পাকিস্তানের লে. জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরীর উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানিয়েছে, সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলায় অন্তত ১২ সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হন ২৭ জন।
সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চায় আফগানিস্তান
তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করতে চায় আফগানিস্তান। তিনি বলেন, ‘নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আফগানিস্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে পাকিস্তান।’ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তিনি আশ্বস্ত করেন, ‘আফগানিস্তানের ভূখণ্ড কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না। আজও এ বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর ভিত্তি করেই আমাদের পররাষ্ট্র নীতি এবং আমরা কারও প্রতি শত্রুতার পথ নিতে চাই না।’
সীমান্তে থেমে থেমে গোলাবর্ষণ
বিবিসির এক সংবাদদাতা আফগানিস্তান থেকে জানান, গতকাল সীমান্তবর্তী জেলা শুলতান, দাঙ্গাম ও নারিতে উভয় পক্ষ একে অপরের দিকে মাঝে মাঝে কামানের গোলা নিক্ষেপ করেছে। নানগারহারে সরাসরি কোনো লড়াই হয়নি। তবে সেখানে তোরখাম সীমান্তের কাছে মাঝেমধ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া তোরখাম সীমান্তের কাছে একটি বড় অস্থায়ী শরণার্থী শিবির রয়েছে, যেখান থেকে যুদ্ধের ভয়ে শরণার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, পাকিস্তান থেকে তোরখাম হয়ে আফগানিস্তানে প্রবেশকারী শরণার্থীরা সংঘর্ষের ভয়ে ফিরে গেছেন। প্রতিদিন শত শত পরিবার তোরখাম দিয়ে আফগানিস্তানে ফিরছেন। খোস্ত, পাকতিয়া ও পাক্তিকায় গুলিবর্ষণ হয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, পাক্তিকার সারোবি এলাকায় আবারও বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান।

তিনটি স্থানে ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি পাকিস্তানের
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদসহ বেশ কয়েকটি শহরে হামলা চালানো হয়েছে বলে আফগানিস্তানের তালেবানের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও পাকিস্তান বলছে, ছোট ড্রোন ব্যবহার করে দেশের তিনটি শহরে হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে এক্সে দেওয়া বার্তায় আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ইসলামাবাদ, নওশেরা ও অ্যাবোটাবাদের সামরিক স্থাপনাগুলোয় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলা সফল হয়েছে।’
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতা তারার এক্সে বলেন, আফগান তালেবান অ্যাবোটাবাদ, সোয়াবি ও নওশেরা লক্ষ্য করে ছোট ড্রোন ব্যবহার করে হামলার চেষ্টা চালিয়েছিল, যা পাকিস্তান ব্যর্থ করে দিয়েছে। অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম সব ড্রোন ভূপাতিত করেছে। কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তিনি লেখেন, ‘এসব ঘটনা আবারও প্রমাণ করে– আফগান তালেবান সরকারের সঙ্গে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে।’ বিবিসির সংবাদদাতা জানান, খাইবার পাখতুনখোয়ার সোয়াবি এলাকায় কর্তৃপক্ষ একটি ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার বিষয় নিশ্চিত করেছে।
যে কারণে উত্তেজনা
গত অক্টোবরে একাধিক প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর দুই পক্ষ একটি নাজুক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়, যা পরবর্তী সময় টেকেনি। গত সপ্তাহে আফগানিস্তানে বেশ কয়েকবার বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। তালেবানের দাবি, এসব হামলায় নারী-শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এ উত্তেজনার নেপথ্যে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। সংগঠনটির বিরুদ্ধে পাকিস্তানে বোমা হামলা চালানো ও নাগরিকদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ইসলামাবাদের অভিযোগ, কাবুলে সরকার গঠন করা তালেবান সহায়তা দিচ্ছে টিটিপিকে। তবে কাবুল এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সম্প্রতি সীমান্তের কাছে সাতটি কথিত জঙ্গি শিবির ও আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাকিস্তান। অন্যদিকে, পাকিস্তানে বেশ কয়েকটি আত্মঘাতী হামলা ঘটে। এতে অনেক সেনা ও সাধারণ মানুষ নিহত হন। এ পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। দুদেশের মধ্যে দুই হাজার ৫৭৪ কিলোমিটার পাহাড়ি সীমান্ত রয়েছে।
রাশিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরবের উদ্বেগ
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় চীন, রাশিয়া, তুরস্ক, ইরান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আলজাজিরা জানায়, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস পরিস্থিতি ‘গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ’ করছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি উভয় পক্ষকে বেসামরিক মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সংলাপের মাধ্যমে দুই প্রতিবেশীকে সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছেন। রাশিয়া কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে দ্রুতই হামলা বন্ধ করতে দুই পক্ষকে বলেছে। রুশ বার্তা সংস্থা রিয়া নভস্তি বলেছে, দুই পক্ষ সম্মত হলে রাশিয়া মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে। একইভাবে তুরস্ক, কাতার ও যুক্তরাজ্য সংঘাত বন্ধ করে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে।
তবে আফগানিস্তানে এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পাকিস্তানের এ বিমান হামলার ‘তীব্র নিন্দা’ জানায় ভারত।
সংলাপ ও আলোচনার আহ্বান চীনের
পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনা নিয়ে চীন ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’ বলে জানিয়েছে বিবিসি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দুই পক্ষকে সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি এ-ও বলেছে, চীন তাদের ‘নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে সংঘাতের মধ্যস্থতার জন্য কাজ করছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে উত্তেজনা হ্রাস ও উন্নতির জন্য গঠনমূলক ভূমিকা পালন চালিয়ে যেতে প্রস্তুত’ তারা। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ‘প্রতিবেশী ও বন্ধু হিসেবে চীন এ উত্তেজনার বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং সংঘর্ষের ফলে হতাহতের ঘটনায় দুঃখিত। যে কোনো উত্তেজনা দুই পক্ষের জন্যই ক্ষতির কারণ হবে।’
উদ্বেগ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর
বিবিসি জানায়, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি বলেন, এ দুই ইসলামিক দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বা ‘সরাসরি যুদ্ধ’ কারও স্বার্থের পক্ষেই ভালো নয়। ফেসবুকে এক বার্তায় আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘উভয় পক্ষের প্রাণহানি গভীর শোকের কারণ। রমজান মাসে এ যে সহিংসতা ঘটছে, তা পরিস্থিতিকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে।’ তিনি দুই পক্ষকে ‘সর্বোচ্চ স্তরের আত্মনিয়ন্ত্রণ’ ও অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানান।
আফগানরা ‘প্রিয় মাতৃভূমি রক্ষা করবে’: কারজাই
বিবিসি লিখেছে, পাকিস্তানের হামলার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘সব পরিস্থিতিতে আফগানরা পূর্ণ ঐক্যের সঙ্গে তাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে রক্ষা করবে এবং সাহসের সঙ্গে আগ্রাসনের জবাব দেবে।’ তিনি লেখেন, পাকিস্তানকে ‘নিজের নীতি পরিবর্তন করতে হবে, আফগানিস্তানের সঙ্গে ভালো প্রতিবেশীর মতো আচরণ করতে হবে এবং শ্রদ্ধা ও সভ্য সম্পর্কের পথ বেছে নিতে হবে।’
যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান মাওলানা ফজলুর
দ্য নেশন লিখেছে, চলমান উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের ধর্মভিত্তিক দল জমিয়তে উলেমা-ই-ইসলামের (এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক আবহে একতরফা সামরিক অভিযান সমস্যার সমাধান করবে না, বরং জটিলতা বাড়িয়ে তুলবে। মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, নিরাপত্তার বিষয়ে পাকিস্তানের অভিযোগ বৈধ। তবে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ সমস্যার প্রতি শ্রদ্ধাও প্রয়োজন। তিনি দুই দেশকে সংযম, সহনশীলতা, দায়িত্বশীল মনোভাব দেখানো ও অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান।
টিটিপিকে সমর্থনের প্রমাণ নেই: কাবুলভিত্তিক বিশ্লেষক
কাবুলভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব আফগানিস্তানের সহকারী প্রভাষক ওবায়দুল্লাহ বাহির আলজাজিরাকে বলেছেন, এই সংঘাতের আক্রমণকারী কে, তা স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আফগান সরকার বলেছে, রাতে চালানো তাদের হামলা আফগানিস্তানের একটি মাদ্রাসা ও পরিবারে গত রোববার বোমা হামলার প্রতিশোধ। আর পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা টিটিপির হামলার প্রতিক্রিয়ায় এটি করছে। তালেবানরা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী টিটিপিকে সমর্থন করছে– এমন ভুয়া দাবি করছে ইসলামাবাদ। ওবায়দুল্লাহ বাহির বলেন, তালেবানরা এ গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে বা সমর্থন করছে– এমন কোনো প্রমাণ নেই। বাহির আরও বলেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মধ্যে এমন কিছু মহল আছে, যারা সংঘাত চায়।
এদিকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সংঘাত নিয়ে সুইডেনভিত্তিক বিশ্লেষক আবদুল সাঈদ বলেছেন, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরুর ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ কারণগুলো একটি উল্লেখযোগ্য বাধা। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, উভয় দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধন রয়েছে; বিশেষ করে সীমান্তের উভয় পাশে বসবাসকারী উপজাতিদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক একটি বড় কারণ।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের যথেষ্ট সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আফগানিস্তানের সঙ্গে বৃহৎ পরিসরে রক্তপাতের দিকে তারা যেতে পারবে না। তালেবানদের টেকসই বিমান হামলা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ বা থামিয়ে দেওয়ার সামরিক সক্ষমতাও নেই বলে জানান তিনি।
