আলজাজিরার বিশ্লেষণ
খামেনি হত্যার পর মার্কিন দাবি কি মানবে ইরান
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬ | ০৬:১৩ | আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ | ১৭:৩৯
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসেও যুক্তরাষ্ট্র দাবি আদায় করতে পারেনি। বারবার আলোচনা হলেও মূল একটি পয়েন্টে দুপক্ষই দ্বিমত ছিল। যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই চেয়ে এসেছে ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করতে হবে। ইরান কোনো পরামাণু অস্ত্র তৈরি বা সংরক্ষণ করতে পারবে না। এমনকি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রধান উপাদান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধও করতে পারবে না। যতটুকু ইউরেনিয়াম তেহরান এতদিন জমিয়েছে, তাও অন্য কোনো দেশে হস্তান্তর চেয়েছে ওয়াশিংটন। কিন্তু ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক কর্মসূচি বাদ দিতে রাজি নয়। নিজেদের তৈরি করা এই প্রযুক্তি তারা হাতছাড়া করতে চায় না। সর্বশেষ বৈঠকে ইরানের মনোভাব স্পষ্ট হওয়ার পরই হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল।
এ অবস্থায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মারা গেলেন। তার সঙ্গে মৃত্যু হলো একঝাঁক শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক নেতার। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, ইরান কি যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো মেনে নেবে? নাকি প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সর্বোচ্চ নেতাকে হারানোর পর ইরান এখন মার্কিন দাবি মেনে নেবে না বলেই মনে হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সাবেক উপসহকারী সচিব মাইকেল মুলরয় আলজাজিরাকে বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয়বারের মতো সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত হবে। তবে ইরানের পরিস্থিতি এক ‘ভিন্ন ধরনের খেলা’।
তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলার শাসন ব্যবস্থা সত্যিই কিছু দুর্বল নেতারা পরিচালনা করছিলেন। এক মাদুরোই দেশটিতে সর্বেসর্বা ছিলেন। কিন্তু ইরানের বিষয়টি তা নয়। খামেনির নেতৃত্বে ইরানে ভিন্ন ক্ষমতার কেন্দ্র গড়ে উঠেছে দীর্ঘ সময় ধরে। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামরিক বাহিনী কিংবা গোয়েন্দা পরিষেবা স্বয়ংস্পূর্ণভাবে নিজেদের পরিচালিত করতে পারে। ফলে সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার পরও দেশটির কর্মকর্তারা ভেঙে পড়েননি। তারা কখনও মার্কিন দাবি মেনে নেবে না– এটাই প্রতীয়মান হচ্ছে।
মুলরয় বলেন, মার্কিন দাবি না মানলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। এই অঞ্চল একটি সর্বাত্মক যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে। এই পরিস্থিতি সব পক্ষকে বিপাকে ফেলবে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল আরও জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়বে। অন্যদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোও একইভাবে সমান ভোগান্তির শিকার হবে।
এই বিশ্লেষক বলেন, ‘ইরানের কাছে ড্রোন রয়েছে, যা দুবাই এবং বাহরাইনের অনেক ভবনে আঘাত করছে। তারা এগুলো ব্যাপকভাবে তৈরি করতে পারে। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে রাশিয়ার কাছে ড্রোন সরবরাহ করে আসছে তেহরান। সুতরাং পশ্চিমা আগ্রাসন ও তেহরানের সামরিক সক্ষমতা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘদিন ধরে ভোগাতে পারে। ইরানি ড্রোনগুলো ভূপাতিত করা সহজ হলেও আমিরাত, বাহরাইনের মতো দেশগুলোর জন্য তা আতঙ্কের হয়ে উঠতে পারে।
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় বিধ্বংসী যুদ্ধ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার জেনেভায় তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পর্বে মিলিত হয়েছিল। কিন্তু পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান বিরোধের মধ্যে কোনো চুক্তিই সেদিন আলোর মুখ দেখেনি। শেষ আলোচনার আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সতর্ক করেছিলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে ‘বিধ্বংসী যুদ্ধ’ শুরু হতে পারে। তিনি বলেন, ‘যেহেতু মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, দুর্ভাগ্যবশত এই যুদ্ধ পুরো অঞ্চলজুড়েই ছড়িয়ে পড়বে।’
তখন ট্রাম্পও বলেন, ‘ইরান শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।’ গত বছর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলাকে একটি সতর্কতা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। অবশেষে দুপক্ষের আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে যুদ্ধ শুরুর মাধ্যমে।
- বিষয় :
- ইরান
- হামলা
- নিহত
- খামেনি
- যুক্তরাষ্ট্র
- ইসরায়েল
- সরকার
- ক্ষমতা দখল
