ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

রয়টার্সের জরিপ

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে চান না ৬৬ শতাংশ মার্কিনি

যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে চান না ৬৬ শতাংশ মার্কিনি
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৫:২৩

যুক্তরাষ্ট্রের দুই-তৃতীয়াংশ নাগরিক মনে করেন, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা দ্রুত শেষ করার জন্য কাজ করা উচিত। ট্রাম্প প্রশাসনের নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব না হলেও এটি করা উচিত। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত এ জরিপ চালানো হয়। এতে অংশগ্রহণকারীর মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশ বলেছেন, যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসতে হবে। ২৭ শতাংশ বলেছেন, সংঘাত দীর্ঘ সময় ধরে চললেও ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তার সব লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করা। ৬ শতাংশ প্রশ্নের জবাব দেননি। 

ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানদের মধ্যে ৪০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য অর্জিত না হলেও দ্রুত সংঘাতের অবসান ঘটানোর পক্ষে ছিলেন; তবে ৫৭ শতাংশ দীর্ঘতর সম্পৃক্ততা সমর্থন করেছেন।

ইরানের সঙ্গে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে শত শত মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত হেনেছে। এতে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা বেড়েছে। জরিপে ১ হাজার ২১ জন অংশ নেন। ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা ইরানে মার্কিন হামলার বিরোধিতা করেছেন; ৩৫ শতাংশ পক্ষে মত দিয়েছেন। 

ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস বলেন, ট্রাম্পের পছন্দের যুদ্ধে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সবকিছুই ব্যয়বহুল করে তুলেছে। কেবল জ্বালানিই নয়, মুদি দোকানেও ব্যয় বেড়েছে। 

এ অবস্থায় ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। জবাবে ইরান ইসরায়েল ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোতে মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করছে। গতকাল বুধবার আলজাজিরা জানায়, হামলার শিকার হয়েছে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। সেখানে আগুন লেগে যায়। বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ বলছে, সেখানে একটি কোম্পানির ভবনে হামলা হয়েছে। 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল জানায়, তারা ইরানের ছোড়া পাঁচটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫টি ড্রোন ঠেকিয়েছে। বিবিসির খবরে বলা হয়, আরব আমিরাতে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে গতকাল এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। ফুজাইরাহ অঞ্চলের আল রিফা এলাকায় ইরানের ছোড়া ড্রোনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঠেকালেও ধ্বংসাবশেষ একটি খামারে পড়ে। সেখানে ওই বাংলাদেশি কাজ করছিলেন।

কুয়েতের বেসামরিক বিমান পরিবহনের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল রাজি বলেন, ইরান ও তার সশস্ত্র সংগঠনের ড্রোনে বিমানবন্দরে আগুন লেগে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। কাতারের রাজধানী দোহার কাছে অজ্ঞাত বস্তু দিয়ে একটি তেলের ট্যাঙ্কারে হামলা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ইরান থেকে এ হামলা চালানো হয়।

গতকাল ইরানের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র। আলজাজিরা জানায়, উত্তর-পশ্চিম ইরানের মিয়ানেহ এলাকায় তাদের যৌথ হামলায় অন্তত চারজন নিহত হন। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট বলছে, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় স্কুল-হাসপাতালসহ ১ লাখ ১৫ হাজার বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, গতকাল মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে স্টিল কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশটির সবচেয়ে বড় স্টিল কারখানা মোবারাকেহ স্টিল কোম্পানিও।

বিবিসি লিখেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন– ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তাঁর আলোচনা চলছে। ওভাল অফিসে তিনি বলেন, ইরান ‘আগামী বহু বছরেও’ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না– এ বিষয়ে নিশ্চিত হলেই যুক্তরাষ্ট্র ‘দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে’ ইরান ছেড়ে যাবে। তিনি বলেন, ইরান তাদের ‘চুক্তির জন্য অনুরোধ করছে’। কিন্তু চুক্তি হোক বা না হোক, সেটি যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। স্থানীয় সময় বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

অবশ্য ইরান এ দাবি স্বীকার করেনি। এর আগে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে– এমন দাবি করলেও পরে তা প্রত্যাখ্যান করে তেহরান। হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির উদ্ধৃতি দিয়ে আলজাজিরা জানায়, হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ইরানের। আইআরজিসি বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যঙ্গাত্মক প্রদর্শনীর মাধ্যমে জাতির শত্রুদের জন্য এ প্রণালি খুলবে না।

ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র গতকাল ভোরে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে আঘাত হেনেছে। আইআরজিসি জানায়, মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলে বিভিন্ন লক্ষ্যে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় ১০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।

যুদ্ধে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে লেবানন। সেখানে হিজবুল্লাহর গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সীমান্তের অভ্যন্তরে স্থল অভিযানে ব্যাপক সম্মুখযুদ্ধের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিবিসির খবরে বলা হয়, গতকাল ইয়েমেন থেকে হুতিরা ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। 

ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন ট্রাম্প

ন্যাটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ‘গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ন্যাটো জোটকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প এবং যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের এ চলমান যুদ্ধ বা সংঘাত শেষ হওয়ার পর তিনি ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের সদস্যপদ পুনর্বিবেচনা করবেন কিনা। জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি ‘পুনর্বিবেচনার বাইরে’ চলে গেছে। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কখনোই ন্যাটোর দ্বারা প্রভাবিত হইনি। আমি বরাবরই জানতাম, তারা কাগুজে বাঘ আর পুতিনও বিষয়টি জানেন।’ যুক্তরাজ্যের যুদ্ধজাহাজ বহরের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এমনকি তোমাদের তো নৌবাহিনীও নেই। তোমরা খুব পুরোনো হয়ে গেছ। তোমাদের বিমানবাহী রণতরী ছিল, কিন্তু সেগুলো ব্যবহার করা যায়নি।’

চাপ দিয়ে লাভ নেই, ব্রিটিশ জনগণের কথা ভাবব: স্টারমার

ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। বিবিসি জানায়, স্টারমার এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইরান যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ব্যাপারে আমার অবস্থান পরিবর্তনের জন্য অনেক চাপ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি যুদ্ধ নিয়ে আমার অবস্থান পরিবর্তন করব না। চাপ যেমনই হোক, আওয়াজ যেমনই হোক, আমি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী; আমাকে আমাদের জাতীয় স্বার্থেই কাজ করতে হবে।’ এর আগে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে যুক্তরাজ্যসহ মিত্রদের উদ্দেশ করে লিখেন, ‘তোমাদের নিজ দায়িত্বে লড়াই করতে শিখতে হবে, যুক্তরাষ্ট্র আর তোমাদের সাহায্যে থাকবে না।’

এ অবস্থায় ফ্রান্সের সেনাবাহিনীবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যালাইস রুফো বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খোলার জন্য ন্যাটো গঠন করা হয়নি। এটি ইউরো-আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তায় গঠিত সামরিক জোট।

আরও পড়ুন

×