ট্রাম্পের হুমকিতে অস্তিত্ব সংকটের মুখে ন্যাটো, শঙ্কায় নেতারা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:২৮ | আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:২৮
সামরিক জোট ন্যাটো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংকট মোকাবিলা করে টিকে আছে। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে বর্তমানের ইরান যুদ্ধ কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক চাপ ও অপমান সইতে হয়েছে জোটটিকে। এমনকি ট্রাম্প জোটটির মূল উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এসব ঘটনায় ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে একদিকে নেতারা হতাশ, অন্যদিকে জোটটির নেতারা আরও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা ভাবছেন। আর মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, ন্যাটো কোনো একতরফা নীতি গ্রহণ করতে পারে না। রয়টার্সের বিশ্লেষণে এসব কথা উঠে এসেছে।
রয়টার্স লিখেছে, ইউরোপ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে ৭৬ বছরের পুরোনো সামরিক জোট ন্যাটো এক গভীর সংকটে পড়েছে। বর্তমানে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে জোটটি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু করেই ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালি রক্ষায় যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানান। কিন্তু দেশগুলো তাদের নৌবাহিনী পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোয় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কথা বিবেচনা করার ঘোষণা দেন। বিশ্লেষক ও কূটনীতিকদের মতে, শীতল যুদ্ধের সময় গঠিত যে জোটটি দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় নিরাপত্তার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে, তা এখন দুর্বল হয়ে পড়ছে। এমনকি প্রতিরক্ষা চুক্তিটি টিকবে কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ জাগছে। ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ইউরোপ, রাশিয়া ও ইউরেশিয়া প্রোগ্রামের প্রধান ম্যাক্স বার্গম্যান বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ন্যাটো এখন সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে। গত ফেব্রুয়ারিতেও ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়া ইউরোপের আত্মরক্ষার ধারণাটিকে একটি ‘হাস্যকর চিন্তা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক প্রধান জেনারেল ফ্রাঁসোয়া লেকোয়ান্ত্রে বলেন, ‘ন্যাটো এখনও প্রয়োজনীয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ন্যাটোর কথা ভাবার সক্ষমতা আমাদের থাকতে হবে। ন্যাটোর একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ফ্রেন্ডস অব ইউরোপ থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সিনিয়র ফেলো জেমি শেয়া মনে করেন, ন্যাটোর জন্য বর্তমান পরিস্থিতি ভয়াবহ। অন্যদিকে, ট্রাম্প ও তাঁর কর্মকর্তারা হরমুজে ন্যাটোর অনিচ্ছাকে কেন্দ্র করে হতাশা প্রকাশ করেছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা ঘোষণা করেন, ন্যাটো কোনো একতরফা নীতি গ্রহণ করতে পারে না।
আগামী সপ্তাহে ন্যাটোর মহাসচিব রুতে ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি আবারও পরিবর্তন করার প্রচেষ্টায় ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিরক্ষা প্রশ্নে ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে সব সময় পাশে চায়।
নিজের পরিণতি ইউরোপেও চাপাচ্ছেন ট্রাম্প
সিএনএন লিখেছে, ইউরোপ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায়নি। তবুও ট্রাম্প এর পরিণতি তাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছেন। যুদ্ধ ঘোষণা করে ট্রাম্প ইরানের জনগণকে বলেছিলেন, ‘আমাদের কাজ শেষ হলে, তোমাদের সরকার দখল করে নিও। এটা তোমাদেরই হবে।’ কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পর সেই পরিস্থিতি উল্টে গেছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রই জ্বালানি সংকটে ভুগছে। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস রিচার্ড হাস মনে করেন, দায়িত্ব এড়ানোর জন্য ট্রাম্পের প্রচেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মার্কিন নীতির ইঙ্গিত দেয়।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাট্টা হচ্ছেন ন্যাটো নেতারা
পলিটিকো লিখেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ন্যাটো মিত্রদের প্রতি ট্রাম্পের ক্ষোভ ইউরোপকে তাঁর (ট্রাম্প) বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেছে। ব্যক্তিগতভাবে তারা এ বিষয়ে আলোচনা করছেন। ট্রাম্পের ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি কীভাবে মোকাবিলা করা যায়; কিংবা তিনি যদি তা বাস্তবায়ন করেন, তবে কী করতে হবে– এসব বিষয় নিয়ে তারা চিন্তা করছেন। তারা মনে করেন, ব্রিটেন, স্পেন, ফ্রান্স এবং অন্যদের ওপর ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ জোটে মৌলিক ফাটল সৃষ্টি করেছে।
রাসমুসেন গ্লোবালের সিইও এবং ন্যাটোর নীতি পরিকল্পনার সাবেক পরিচালক ফ্যাব্রিস পোথিয়ের মনে করেন, ইরান যুদ্ধে ট্রাম্প ইউরোপকে হালকাভাবে নেওয়ার পরিণতির মুখোমুখি হচ্ছেন। ট্রাম্পের ক্রোধের পরিণতি মোকাবিলায় ইউরোপীয়দের মূল কাজ ঐক্যবদ্ধ থাকা।
- বিষয় :
- ইউক্রেন
- ন্যাটো
- ডোনাল্ড ট্রাম্প
- ইরান যুদ্ধ
