পাখি
যুক্তরাজ্যের বিলুপ্তপ্রায় সারসের রেকর্ড প্রজনন
যুক্তরাজ্যের লেকেনহেথ ফেনে সারসের জোড়া বিবিসি
আবদুস সামাদ আজাদ
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৮:৪০ | আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে লম্বা পাখির মধ্যে রয়েছে বিশেষ প্রজাতির সারস। বিলুপ্তপ্রায় পাখিটি গত এক বছরে প্রজননে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এর নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছে একটি সংরক্ষিত জলাভূমি।
দেশটির সাফোক অঞ্চলের লেকেনহেথ ফেন এলাকায় জলাভূমিটি অবস্থিত। রয়্যাল সোসাইটি ফর দ্য প্রটেকশন অব বার্ডস (আরএসপিবি) এটি পরিচালনা করে। ২০০৭ সাল থেকে সাধারণ সারসদের আবাসস্থল হিসেবে এটি গড়ে তোলা হয়েছে। এই প্রাকৃতিক সংরক্ষণাগার বর্তমানে প্রজননক্ষম জোড়া সারসদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
অতিরিক্ত শিকার ও জলাভূমি হারানোর কারণে প্রায় ৪০০ বছর আগে সারসের এই প্রজাতিটি যুক্তরাজ্যে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। গত বছর দেশজুড়ে রেকর্ডসংখ্যক ৩৭টি ছানার জন্ম হয়।
আরএসপিবি লেকেনহেথ ফেনের সাইট ম্যানেজার ডেভ রজার্স বলছেন, এই পাখির সংখ্যা বাড়ানো একটি ‘ধীর প্রক্রিয়া।’ এই কাজে অংশ নিতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। বেশ কয়েকটি পাখি তাদের ছানা বড় করার জন্য এই জলাভূমিটি বেছে নিয়েছে।
সারস এক মিটারেরও বেশি লম্বা হয় এবং তাদের ডাক সাড়ে ৩ মাইল (৫.৬ কিলোমিটার) দূর থেকেও শোনা যায়। গত বছর আরএসপিবি যুক্তরাজ্যজুড়ে ৮৭ জোড়া সারস ও ৩৭টি ছানা নথিভুক্ত করেছে। এর ফলে সারসের সংখ্যা প্রায় ২৫০টিতে পৌঁছেছে।
আরএসপিবির মতে, ষোলো শতকে পাখিটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। এরপর ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে অল্প সংখ্যক বুনো সারস নরফোক ফেন এলাকায় আসে। ২০২৫ সালটি পাখিটির জন্য প্রজননে একটি রেকর্ড সৃষ্টিকারী বছর হয়ে থাকবে। এরপরও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জলাভূমির সংকট থাকায় সারসরা এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
লেকেনহেথ ফেনের পাখিরা এখানকার নলখাগড়ার ঝাড় উপভোগ করে, যা তাদের মানুষ থেকে দূরে জলের নাগাল পেতে সাহায্য করে। ২০০৭ সাল থেকে এখানে ২৬টি ছানা বড় হয়েছে। তারা এখন নিরাপদে ওড়ার জন্য প্রচুর খোলা জায়গা পেয়ে গেছে।
রজার্স বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, লেকেনহেথে বহু সারস জুটির জন্য জায়গা রয়েছে। আমরা হয়তো আরও কিছু পাখি এখানে ছেড়ে দিতে পারব। কিন্তু নতুন জুটিগুলো কতটা আক্রমণাত্মক হবে, অন্যদের প্রতি কতটা সহনশীল হবে, তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়।
তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি হয়তো আরও চার জোড়া সারস এখানে আনতে পারব। ওরা বছরে মাত্র দুটি ডিম পাড়ে। তাই সর্বোচ্চ দুটি ছানা বড় করতে পারে। এরপর বাচ্চা সারসগুলোর জোড়া বাঁধতে এবং থিতু হতে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগে। ভালো বাবা-মা হতে শিখতে তাদের সাধারণত কয়েক বছর সময় লাগে। এজন্যই সারসের সংখ্যা বাড়ানো একটি ধীর প্রক্রিয়া।’
আরএসপিবি লেকেনহেথ ফেনের সহকারী ওয়ার্ডেন হেইডেন ফক্স ব্যাখ্যা করেন, সারস জোড়াগুলো আজীবনের জন্য সঙ্গী হয় এবং একে অপরের প্রতি অত্যন্ত অনুগত থাকে। যখন আমরা উড়ন্ত অবস্থায় একা সারস দেখতে শুরু করি, তখন বুঝতে পারি যে তারা বাসা বাঁধছে। তারা কেবল ডিমের দায়িত্ব পালা করে সম্পাদন করে। তাই একটি খাবার খেতে যায় ও অন্যটি ডিমের দায়িত্বে থাকে।’
ফক্স বলেন, জোড়াগুলোর প্রতি আকৃষ্ট না হওয়াটা কঠিন। ওড়ার সময় বোঝা যায় ওরা রাজকীয় পাখি। ওদের নিজস্ব ব্যক্তিত্বও আছে। সূত্র: বিবিসি।
- বিষয় :
- পাখি
- সারস
- বিলুপ্তপ্রায় প্রাণি
- যুক্তরাজ্য
