ভারতের নির্বাচনী মানচিত্র নতুন করে আঁকার চেষ্টায় মোদি সরকার
দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন
লোকসভার ৫৪৩ আসনকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার পরিকল্পনার কথা বলা হয় একটি বিলে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:২৮ | আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ১২:২৯
এপ্রিলের গরমে দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন কালো পোশাক পরে জনতার সামনে হাজির হন। তাঁর হাতে একটি সরকারি বিলের কপি। সঙ্গে একটি লাইটারও ছিল। তাঁর ভাষায় এটি ‘কালো আইন’, যেখানে ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষের আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ পর্যন্ত করার কথা রয়েছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দলীয় কর্মীদের স্লোগান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিলটি পুড়ে ছাই হয়ে গেল।
ব্রিটেনের দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ প্রতিবাদ শুধু রাজনৈতিক নাটক ছিল না। এটি ছিল এমন এক রাজনৈতিক লড়াইয়ের সূচনা, যা কয়েক দশকের মধ্যে ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে। এটি প্রতিনিধিত্ব, ক্ষমতা ও বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের মূল কাঠামো নিয়ে এক লড়াই। এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংসদীয় নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্গঠন ও নিম্নকক্ষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ। তাঁর দল বিজেপি বলছে, ২০২৩ সালের একটি আইন বাস্তবায়নের জন্য এ পদক্ষেপটি প্রয়োজনীয়, যে আইন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বিধানসভার মোট আসনের ৩৩ শতাংশ নারীদের দ্বারা পূরণ করা বাধ্যতামূলক।
সমালোচকরা বলছেন, এই দুটি বিষয়কে সংযুক্ত করার কোনো প্রয়োজন নেই। নারী সংসদ সদস্যদের জন্য ন্যূনতম কোটা সংসদের বিদ্যমান কাঠামোতেই প্রয়োগ করা যেতে পারে। তাদের যুক্তি, এ প্রস্তাবের আসল উদ্দেশ্য আরও অনেক বেশি কৌশলগত– ২০২৯ সালের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস।
ভারত ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে সংসদীয় আসনের উল্লেখযোগ্য পুনর্বণ্টন করেনি। সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিলের মাধ্যমে লোকসভার (নিম্নকক্ষ) আসন সংখ্যা ৮৫০টি পর্যন্ত বাড়ানো ও ২০১১ সালের সর্বশেষ জনশুমারির ভিত্তিতে নির্বাচনী এলাকাগুলোর সীমানা নতুন করে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে ২০২৩ সালে পাস হওয়া কিন্তু এখনও বাস্তবায়িত না হওয়া নারী সংরক্ষণ আইনের বাস্তবায়নকেও যুক্ত করা হয়েছে। ২০২৯ সালের নির্বাচনের আগে এ পরিবর্তনগুলো কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনীগুলো নিয়ে এখন ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে বিতর্ক চলছে।
বিজেপি মুখপাত্র রাধিকা খেরা বলেন, ‘২০২৬ সালের সীমানা পুনর্নির্ধারণ শুধু সংখ্যার বিষয় নয়, এটি গণতান্ত্রিক ভারসাম্যের বিষয়।’ কিন্তু প্রস্তাবটি দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে গভীর অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে। সেখানে শাসক দল বিজেপির উপস্থিতি সাধারণত ততটা শক্তিশালী নয়। তাদের উদ্বেগের মূলে রয়েছে একটি সহজ সমীকরণ– যদি সংসদীয় আসনগুলো শুধু জনসংখ্যার ভিত্তিতে বণ্টন করা হয়, তাহলে উচ্চ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারযুক্ত রাজ্যগুলো (প্রধানত উত্তর ভারতে) বেশি সংখ্যক সংসদ সদস্য পাবে। অন্যদিকে দক্ষিণের রাজ্যগুলোর আপেক্ষিক প্রভাব হ্রাস পাবে।
তামিলনাড়ুর শাসক দল দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগামের সংসদ সদস্য পি উইলসন এটিকে কয়েক দশক পুরোনো একটি রাজনৈতিক চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘রাজ্যগুলোকে বলা হয়েছিল– জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করুন এবং আসনের সীমানা নির্ধারণ পরে করা হবে। এখন সেই কথাকে উপেক্ষা করা হয়েছে।’
কলকাতায় তৃণমূল নেতাদের বাড়ি-অফিসে তল্লাশি ইডির
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পাঁচ দিন আগে কলকাতার তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারের বাসভবন ও অফিসে আয়কর দপ্তরের তল্লাশি চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফা নির্বাচন ২৩ এপ্রিল। তবে ওই দিন নির্বাচন রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় নয়, উত্তরবঙ্গে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টা নাগাদ আয়কর বিভাগ দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী আসনের তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারের বাসভবন ও অফিসে তল্লাশি চালিয়েছে। মনোহরপুকুর রোডে তাঁর বাড়ি ও নির্বাচনী কার্যালয়ে একযোগে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
- বিষয় :
- ভারত
- তামিলনাড়ু
- সংসদ
