ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কা, বৃষ্টিভেজা রাতে চার ঘণ্টা স্ট্রংরুমে মমতা
ছবি: সমকাল
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ | ০৬:৩৯
ইভিএমে সম্ভাব্য কারচুপির আশঙ্কায় বৃষ্টিভেজা রাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসপ্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার রাতেই ভবানীপুরের স্ট্রংরুমে পৌঁছে প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থান করেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘জনমত রক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি।’
বৃহস্পতিবার বিকেলে ভিডিও বার্তায় দলীয় প্রার্থীদের স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেন মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, ইভিএমে কারচুপির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এরপর রাত বাড়তেই নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরের গণনাকেন্দ্র শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে হাজির হন তিনি।
লর্ড সিনহা রোডের ওই কেন্দ্রে ভবানীপুর বিধানসভা আসনের ইভিএম সংরক্ষণ করা হয়েছে। রাত আটটা থেকে মধ্যরাতের কিছু পর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন তৃণমূল নেত্রী। সঙ্গে ছিলেন তার নির্বাচনী এজেন্টরাও। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্ট্রংরুমের পরিস্থিতি এবং নির্বাচন-পরবর্তী প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখেন তিনি।
মমতার উপস্থিতিকে ঘিরে দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। স্ট্রংরুমের বাইরে জড়ো হন তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। দুই পক্ষের মধ্যে বচসা ও উত্তেজনার জেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নামে কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরে এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়।
স্ট্রংরুম থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বলেন, ‘কারচুপির চেষ্টা হতে পারে, তাই সতর্ক থাকতে হবে। কোনও অন্যায় বরদাস্ত করা হবে না।’ তিনি জানান, তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্ট্রংরুম পাহারায় প্রতিনিধি রাখা হয়েছে।
এদিন শুধু ভবানীপুর নয়, কলকাতার অন্য কেন্দ্রগুলোতেও স্ট্রংরুম ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। বেলেঘাটার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীরা সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগ তুলে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। তাদের দাবি, লাইভ স্ট্রিমিংয়ে স্ট্রংরুমের ভেতরে কার্যকলাপ দেখা গেছে, অথচ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়েছে।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, বিকেলে দলীয় প্রতিনিধিরা সরে যাওয়ার পর হঠাৎ ই-মেল করে স্ট্রংরুম খোলার কথা জানানো হয়। কিন্তু পরে তাদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। শশী পাঁজার প্রশ্ন, ‘স্ট্রংরুমের মতো স্পর্শকাতর জায়গা খোলা হলে সব রাজনৈতিক দলকে জানানো হলো না কেন?’
পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা নির্বাচন আধিকারিক ঘটনাস্থলে যান। পরে কমিশনের প্রতিনিধিরা আশ্বাস দেন, সব দলের উপস্থিতি ছাড়া কাউকে স্ট্রংরুমে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, ভোট-পরবর্তী সময়ে স্ট্রংরুমকে কেন্দ্র করে এমন সরাসরি রাজনৈতিক সতর্কতা বিরল। বিশেষ করে একজন মুখ্যমন্ত্রীর নিজে গিয়ে রাতভর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা বিষয়টিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
ভোট শেষ হলেও ফল ঘোষণার আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপ যে কমছে না, বৃহস্পতিবার রাতের ঘটনাপ্রবাহে সেটিই আরও স্পষ্ট হলো।
