ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

লেবাননে ইসরায়েলকে ‘চ্যালেঞ্জ’ জানাচ্ছে হিজবুল্লাহর বিশেষ ড্রোন

লেবাননে ইসরায়েলকে ‘চ্যালেঞ্জ’ জানাচ্ছে হিজবুল্লাহর বিশেষ ড্রোন
×

ইউক্রেনের ফাইবার-অপটিক এফপিভি ড্রোনের মতো বিশেষ ড্রোন ব্যবহার করছে হিজবুল্লাহ। ছবি: ওয়াইনেট গ্লোবাল

মিডল ইস্ট আই, ওয়াইনেট

প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ১৫:৫৪ | আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ | ১৯:১৭

লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বিশেষ এক ধরনের ড্রোন ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞরা। ফাইবার-অপটিক কোয়াডকপ্টার ড্রোনগুলো শনাক্ত করা বা থামানো বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে তেল আবিবের সেনাদের জন্য।

ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, এই ড্রোন ব্যবস্থাগুলো কোনো সংকেত ছাড়াই লক্ষ্যবস্তুর উচ্চমানের দৃশ্য ধারণ করতে পারে। এতে কোনো বেতার তরঙ্গ ব্যবহার হয় না। ফলে জ্যাম করার সুযোগ নেই। ড্রোনটি ঠিক কোন স্থান থেকে উড্ডয়ন করেছে সেটি খুঁজে বের করাও প্রায় অসম্ভব।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আরেকটি সূত্র সিএনএনকে বলেছে, ফাইবার অপটিক ড্রোনগুলো অত্যন্ত কার্যকর। কারণ, এগুলো বেতার সংকেতের পরিবর্তে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে সরাসরি অপারেটরের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই তারগুলো প্রায় ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা করা যায়। ফলে ড্রোন চালক নিরাপদ দূরত্বে থাকতে পারেন। অন্য একটি সূত্রের দাবি, হিজবুল্লাহ এই ড্রোনগুলোতে শক্তিশালী বিস্ফোরক যুক্ত করছে। 

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই নতুন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় তারা কার্যকর উপায় খোঁজার চেষ্টা করছেন।

হিজবুল্লাহর ওড়ানো ফাইবার-অপটিক কোয়াডকপ্টার ড্রোন। ছবি: আলজাজিরার সৌজন্যে

হিজবুল্লাহর এই বিশেষ ড্রোন নিয়ে গত মঙ্গলবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ইসরায়েলি গণমাধ্যম ওয়াইনেট গ্লোবাল। এতে বলা হয়, অপেক্ষাকৃত সস্তা এই ড্রোনগুলো এখন ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর পছন্দের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রর বিকল্প হিসেবে তারা এগুলো ব্যবহার করছে। দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন ওয়ার্কশপে এই ড্রোনগুলো সংযোজন ও পরিমার্জন করা হয়। সেখানে হিজবুল্লাহর সদস্যরা ড্রোনে ক্যামেরা ও বিস্ফোরক যুক্ত করে।

ওয়াইনেট লিখে, সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে উদ্ধার অভিযানে যাওয়া ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) হেলিকপ্টারের ওপর ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে একটি এফপিভি ড্রোন একদল ইসরায়েলি সেনার ওপর হামলা করেছিল। এতে একজন নিহত ও ছয়জন আহত হন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে ড্রোনগুলো ভূপাতিত করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়। 

হিজবুল্লাহর এই ফাইবার-অপটিক ড্রোন ব্যবহারের কৌশল ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে মিলে যায়। সেখানে মস্কো ও কিয়েভ উভয়পক্ষই এমন সস্তা অস্ত্র ব্যবহার করে পরস্পরকে আঘাত করছে। এই ড্রোনগুলো শত্রুপক্ষকে আঘাত করার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারির কাজেও ব্যবহার হচ্ছে বলে লিখে ওয়াইনেট গ্লোবাল।

আরও পড়ুন

×