প্রমোদতরীতে ছড়িয়েছে প্রাণঘাতী ভাইরাস, তিনজনের মৃত্যু, যাচ্ছে স্পেনের দিকে
নোঙরের অনুমতি না পেয়ে কেপ ভার্দের উপকূলে অবস্থান নেয় প্রমোদতরী এমভি হোন্ডিয়াস। ছবি: এএফপি
এএফপি ও রয়টার্স
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ১৩:৫৫
আর্জেন্টিনা থেকে কেপ ভার্দের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি বিলাসবহুল প্রমোদতরীতে প্রাণঘাতী ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এরইমধ্যে তিনজন মারা গেছেন। কেপ ভার্দের সরকার জাহাজটি নোঙরের অনুমতি না দেওয়ায় সেটি এখন স্পেনের দিকে যাত্রা করেছে।
স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজটিকে তারা ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে নোঙরের অনুমতি দিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের একটি কোম্পানির মালিকানাধীন ‘এমভি হোন্ডিয়াস’ নামের প্রমোদতরীতে থাকা চিকিৎসকও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। যাত্রীদের বিশেষ উড়োজাহাজে করে ক্যানারি থেকে স্পেনে নেওয়া হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে জাহাজটি কেপ ভার্দের উদ্দেশে যাত্রা করে। এতে ৮৮ জন যাত্রী এবং ৫৯ জন ক্রু ছিলেন। জাহাজটিতে মোট ২৩টি দেশের নাগরিক আছেন। তাদের মধ্যে দুজন ভাইরাসে আক্রান্ত। একজন মারা গেছেন, আরেকজন আইসিইউতে ভর্তি। আরও ৫ যাত্রী ভাইরাসে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সন্দেহভাজনদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন।
জীবিত যে যাত্রীর শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে তিনি ব্রিটিশ নাগরিক। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যে ব্যক্তি মারা গেছেন তিনি ডাচ নাগরিক। আটলান্টিক মহাসাগরের সেন্ট হেলেনা দ্বীপে জাহাজ থেকে নেমে তিনি উড়োজাহাজে করে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে গিয়েছিলেন। সেখানে গত ২৬ এপ্রিল মারা যান।
যাত্রীদের মধ্যে প্রথম সংক্রমণের উপসর্গ দেখা যায় গত ৬ এপ্রিল। তখন এটিকে হান্টাভাইরাস হিসেবে ধারণা করা হয়। এ ভাইরাস সাধারণত ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে জাহাজে কীভাবে সংক্রমণ ঘটেছে তা খোঁজার চেষ্টা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
সংস্থার মহামারি প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ বিষয়ক বিভাগের পরিচালক মারিয়া ভ্যান কেরখোভ সাংবাদিকদের বলেছেন, জাহাজে ছড়ানো ভাইরাসটির সঠিক প্রজাতি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হান্টাভাইরাস ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ালেও জাহাজে কোনো ইঁদুর নেই বলে তাদের জানানো হয়েছে।
ভ্যান কেরখোভ আরও জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার গবেষকরা ভাইরাসের তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটির সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকার ‘আন্দিজ ভাইরাস’-এর মিল আছে। আন্দিজ একজনের থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়ায়। জাহাজটির যাত্রীরা যেহেতু একে অপরের সংস্পর্শে ছিলেন তাই, সংক্রমণ ঘটে থাকতে পারে।
স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের কোনো একটি বন্দরে পৌঁছানোর পর জাহাজটির যাত্রী ও ক্রুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। এরপর ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে যাত্রীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
