ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বুলিং রুখতে সিঙ্গাপুরের স্কুলে ফিরছে বেত

বুলিং রুখতে সিঙ্গাপুরের স্কুলে ফিরছে বেত
×

ছবি: সংগৃহীত

দ্য ইনডিপেনডেন্ট

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬ | ১০:২৪ | আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ | ১০:২৪

সিঙ্গাপুরের স্কুলগুলোতে চালু হচ্ছে নতুন শৃঙ্খলাবিধি। এই নিয়ম অনুযায়ী, বুলিং বা সাইবার বুলিংয়ের ঘটনায় দোষী প্রমাণিত হলে ছেলেশিক্ষার্থীদের বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া যেতে পারে। চলতি সপ্তাহে দেশটির পার্লামেন্টে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

নতুন বিধিমালায় বলা হয়েছে, গুরুতর বুলিংয়ের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত শিক্ষার্থীকে এক থেকে তিনবার পর্যন্ত বেত্রাঘাত করতে পারবে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

সিঙ্গাপুরের শিক্ষামন্ত্রী ডেসমোন্ড লি বলেছেন, এই শাস্তি হবে “শেষ অবলম্বন” হিসেবে। তাঁর ভাষায়, অন্য সব ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে এবং অপরাধের গুরুত্ব বেশি হলে তবেই বেত্রাঘাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নিয়ম মানা হবে। বেত্রাঘাতের অনুমোদন দিতে হবে স্কুলের প্রধান শিক্ষককে এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত শিক্ষকই এটি কার্যকর করতে পারবেন।

শিক্ষামন্ত্রীর মতে, শাস্তি দেওয়ার আগে শিক্ষার্থীর মানসিক পরিপক্বতা ও সে নিজের ভুল বুঝতে পারবে কি না, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের আচরণ নিয়ে এক বছরের পর্যালোচনার পর এই কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে সিঙ্গাপুর সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির কয়েকটি স্কুলে আলোচিত বুলিংয়ের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

মন্ত্রী জানান, এই নিয়ম শুধু উচ্চ প্রাথমিক স্তরের ছেলেশিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। সাধারণত ৯ থেকে ১২ বছর বয়সী এবং তার চেয়ে বড় ছেলেরা এর আওতায় পড়বে। সিঙ্গাপুরের আইন অনুযায়ী মেয়েদের বেত্রাঘাত করা নিষিদ্ধ।

শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পরবর্তী সময়েও পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রয়োজনে তাদের কাউন্সেলিং ও অন্যান্য সহায়তাও দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ছাত্রীদের ক্ষেত্রে শাস্তি হিসেবে আটক রাখা, সাময়িক বহিষ্কার, আচরণগত গ্রেড কমানো বা স্কুলভিত্তিক অন্য শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই সিঙ্গাপুরের স্কুল ও বিচারব্যবস্থায় শারীরিক শাস্তির বিরোধিতা করে আসছে। তবে দেশটির কর্তৃপক্ষের দাবি, গুরুতর অপরাধ ও অসদাচরণ ঠেকাতে বেত্রাঘাত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ভূমিকা রাখে।

সিঙ্গাপুরে বেত্রাঘাতের এই প্রথা শুরু হয়েছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে। যদিও পরে যুক্তরাজ্য নিজ দেশে শারীরিক শাস্তি বাতিল করে। অস্ট্রেলিয়াও বহু বছর আগে সরকারি স্কুলে এই ব্যবস্থা বন্ধ করেছে।

গত বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুদের শারীরিক শাস্তি তাদের জন্য নানা ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করে এবং এর কোনো ইতিবাচক উপকারিতার প্রমাণ নেই।

মানবাধিকার সংগঠন অ্যাম্নেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, “শারীরিক শাস্তি একটি নিষ্ঠুর ও অপমানজনক আচরণ। শিশুদের বিরুদ্ধে এটি কখনোই ব্যবহার করা উচিত নয়।” সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, বেত্রাঘাত বুলিং বা সহিংসতা কমাতে কার্যকর-এমন প্রমাণও নেই।
 

আরও পড়ুন

×