ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এক মাস পর স্পেনে ভিড়ছে হান্টাভাইরাস আক্রান্ত ক্রুজ জাহাজ

এক মাস পর স্পেনে ভিড়ছে হান্টাভাইরাস আক্রান্ত ক্রুজ জাহাজ
×

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের টেনেরিফে পৌঁছাতে যাচ্ছে এমভি হুন্ডিয়াস। ছবি: বিবিসি

বিবিসি

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ১১:২৭

দুর্লভ অ্যান্দেস ধরনের হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত যাত্রীদের মৃত্যুর ঘটনার প্রায় এক মাস পর অবশেষে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের টেনেরিফে পৌঁছাতে যাচ্ছে এমভি হুন্ডিয়াস। জাহাজটিকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে যাত্রীদের নামানোর প্রস্তুতি নিয়েছে স্পেন সরকার।

স্থানীয় সময় রোববার ভোরের আগে জাহাজটি টেনেরিফের গ্রানাদিয়া বন্দরের কাছে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে জাহাজটির চারপাশে এক নটিক্যাল মাইল নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হবে এবং সরাসরি বন্দরে ভিড়তে দেওয়া হবে না। সমুদ্রেই নোঙর করে রাখা হবে জাহাজটিকে।

স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোনিকা গার্সিয়া এই উদ্ধার ও প্রত্যাবাসন কার্যক্রমকে “অভূতপূর্ব” বলে উল্লেখ করেছেন। ২৩টি দেশের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই অভিযানে শতাধিক যাত্রী ও ক্রুকে নিরাপদে নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

জাহাজে পৌঁছানোর পর মেডিকেল টিম প্রত্যেক যাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে আর কারও মধ্যে ভাইরাসের উপসর্গ দেখা যায়নি। পরে যাত্রীদের জাতীয়তা অনুযায়ী ভাগ করে ছোট নৌকায় তীরে আনা হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের চার্টার বিমান টেনেরিফে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বিশেষ বিমান পাঠাচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতির জন্য চিকিৎসা-সুবিধাসম্পন্ন বিমানও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

স্প্যানিশ নাগরিকদের মাদ্রিদে নিয়ে গিয়ে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাসের সুপ্তিকাল নয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে, ফলে দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে হতে পারে যাত্রীদের।

এই ভাইরাসের উৎস হিসেবে আর্জেন্টিনার দক্ষিণাঞ্চলের একটি বর্জ্যভূমিকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে ইঁদুরের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়ায়। সাধারণত মানুষে মানুষে সংক্রমণ খুবই বিরল হলেও এই জাহাজে ইতোমধ্যে তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।

টেনেরিফের ক্যান্ডেলারিয়া হাসপাতালে বিশেষ আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হাসপাতালের প্রধান নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ মার মার্টিন জানিয়েছেন, “আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় আমাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ রয়েছে।”

যদিও শুরুতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছিল, এখন পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছে। অনেকে বলছেন, যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকবে।

তবে জাহাজের প্রায় ৩০ জন ক্রু সদস্য জাহাজেই থেকে যাবেন এবং পরে সেটি নেদারল্যান্ডসে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। আর অধিকাংশ যাত্রীর জন্য শুরু হতে যাচ্ছে দীর্ঘ কোয়ারেন্টিনের নতুন অধ্যায়।
 

আরও পড়ুন

×