ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সিআইএর প্রতিবেদন

মার্কিন নৌঅবরোধ সত্ত্বেও টিকে থাকতে সক্ষম ইরানের অর্থনীতি

মার্কিন নৌঅবরোধ সত্ত্বেও টিকে থাকতে সক্ষম ইরানের অর্থনীতি
×

তেহরানের ভানাক স্কোয়ারের একটি বিলবোর্ডে হরমুজ প্রণালীর ছবিসহ ফারসি ভাষায় লেখা, “চিরকাল ইরানের হাতে।” ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটন পোস্ট

প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬ | ১৫:১৯ | আপডেট: ১০ মে ২০২৬ | ১৫:৩৮

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত নৌ অবরোধের মধ্যেও ইরান অন্তত তিন থেকে চার মাস টিকে থাকতে সক্ষম-এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার এক প্রতিবেদনে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে জমা দেওয়া সিআইএর বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়, তীব্র অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ইরান এখনো উল্লেখযোগ্য সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহের মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পরও ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত এবং ৭৫ শতাংশ মোবাইল লঞ্চার এখনো ইরানের হাতে রয়েছে। এছাড়া দেশটি ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র মেরামত ও নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজও চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। বুধবার ওভাল অফিসে তিনি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটির অর্থনীতি “ধসে পড়ছে”। তিনি বলেন, মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ “ইস্পাতের দেয়াল” তৈরি করেছে, যার ফলে কোনো জাহাজ সহজে ইরানের বন্দর ব্যবহার করতে পারছে না।

এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জানিয়েছেন, অবরোধের কারণে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে। তার দাবি, সামরিকভাবে দুর্বল হওয়ার পর এখন অর্থনৈতিকভাবেও চাপে রয়েছে তেহরান।

তবে সিআইএর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান এখনো তেল সংরক্ষণ ও বিকল্প উপায়ে রপ্তানির কৌশল অবলম্বন করছে। কিছু তেলবাহী জাহাজে মজুত রাখা হচ্ছে তেল, পাশাপাশি মধ্য এশিয়ার রেলপথ ব্যবহার করে সীমিত আকারে তেল সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ড্যানি সিট্রিনোভিচ বলেন, “অবরোধ কয়েক মাস চললেও ইরান সহজে নতি স্বীকার করবে না। বরং পরিস্থিতি এমন হতে পারে, যেখানে যুদ্ধের পরও ইরান আগের চেয়ে আরও কৌশলগতভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠবে।”

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চললেও দুই দেশের উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি।
 

আরও পড়ুন

×