সীমান্তে কাঁটাতার দিতে জমি অধিগ্রহণে তৎপর পশ্চিমবঙ্গ, মিশ্র প্রতিক্রিয়া সীমান্তবাসীদের
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬ | ১৭:২৫
বাংলাদেশ সীমান্তে অরক্ষিত এলাকাগুলোতে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে উদ্যোগী হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়ার পর সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে শুরু হয়েছে জোর তৎপরতা। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও ক্ষতিপূরণ ও জমি হারানোর আশঙ্কায় অনেক এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মোট সীমান্ত প্রায় ২ হাজার ২১৭ কিলোমিটার। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকা থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের সুন্দরবন পর্যন্ত বিস্তৃত এই সীমান্তের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও অরক্ষিত। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫৬৯ কিলোমিটার পাহাড়ি ও নদীবেষ্টিত সীমান্ত এবং আরও ১১৭ কিলোমিটার এলাকায় এখনো পূর্ণাঙ্গ কাঁটাতারের বেড়া নেই। এসব এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রয়োজন প্রায় ৬০০ একর জমি, যা সীমান্তবর্তী গ্রামবাসীদের কাছ থেকে অধিগ্রহণ করা হবে।
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থেকে বসিরহাট, হিঙ্গলগঞ্জ ও সামশেরনগর পর্যন্ত প্রায় ১৫০ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে এখনও ৫১ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। বসিরহাটের পানিতর সীমান্ত এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, সীমান্তের ওপারেও তাদের চাষের জমি রয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত চাষাবাদ করতে যেতে হয়। তারা বলছেন, যেখানে কাঁটাতার নেই, সেখানেই আগে জমি অধিগ্রহণ করা হোক।
তবে নিরাপত্তার প্রশ্নে সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন অনেক সীমান্তবাসী। তাদের মতে, সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ হলে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমবে এবং সাধারণ মানুষ আরও নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।
নদীয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও সরকারের সিদ্ধান্তকে ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কৃষ্ণগঞ্জের বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দারা বলছেন, তারকাটা না থাকায় এলাকায় মাঝেমধ্যেই অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে। ফলে সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ হলে তারা স্বস্তিতে বসবাস করতে পারবেন।
তবে ভীমপুর থানার মলুয়াপাড়া, হুদোপাড়া ও রাঙিয়াপোতা গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, অতীতে অস্থায়ী কাঁটাতারের বেড়া গ্রাম থেকে অনেকটা ভেতরে বসানো হয়েছিল। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ও কৃষিকাজে সমস্যা তৈরি হয়। তাদের দাবি, নতুন করে কাঁটাতার নির্মাণ হলে তা যেন প্রকৃত সীমান্ত রেখা বরাবরই করা হয়।
মালদা জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাতেও সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন কৃষকরা। হবিবপুরের জোত কুবের এলাকার কৃষকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে কাঁটাতার না থাকায় চোরাকারবারি ও দুর্বৃত্তদের উৎপাত বেড়েছে। ফসল, সেচের পাম্পসহ বিভিন্ন জিনিস চুরি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
কৃষকদের একাংশ জানিয়েছেন, অতীতেও জমি অধিগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও অনেকেই ক্ষতিপূরণ পাননি। তবুও দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে তারা জমি দিতে প্রস্তুত। তবে তাদের দাবি, এবার যেন স্বচ্ছভাবে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হয়।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ ও কাঁটাতারের অবস্থান নিয়ে সীমান্তবাসীদের উদ্বেগও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
- বিষয় :
- কাঁটাতারের বেড়া
- ভারত
- পশ্চিমবঙ্গ
