ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে খাদ্য-সহিংসতা

বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে খাদ্য-সহিংসতা
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬ | ১০:৩৯

বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে ক্ষুধাকে ক্রমশ যুদ্ধের একটি প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত আট বছরে বিশ্বজুড়ে ২০ হাজারেরও বেশি নথিবদ্ধ খাদ্য-সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের বাজারের ওপর এক হাজার ২৬১টি এবং খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ৮৬৩টি  সামরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় বহু খাদ্য সহায়তাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

২০১৮ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বেসামরিক নাগরিকদের পরিকল্পিতভাবে ক্ষুধার্ত রাখার বিরুদ্ধে ২৪১৭ নম্বর প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। এই গবেষণায় মূলত ওই প্রস্তাব পাসের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক আইন থাকা সত্ত্বেও গাজা, সুদান, লেবানন ও হাইতির মতো অঞ্চলগুলোয় মানুষের বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন খাদ্য সরবরাহকে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ‘ইনসিকিউরিটি ইনসাইট’ নামক একটি সংস্থার সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে ১৫টি দেশে ২১ হাজার ৪০৩টি এমন ঘটনা ঘটেছে, যেখানে খাদ্য সরবরাহকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। গবেষকরা এক হাজার ৯০৯টি ফসলি জমিতে সামরিক হামলা এবং ফসলের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ৫৬৩টি পানি অবকাঠামো ধ্বংসের প্রমাণ পেয়েছেন। এতে ৪২টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। 

সবচেয়ে বেশি ৯ হাজার ১৩টি খাদ্য-সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ডে। এর পরই রয়েছে ইয়েমেন (এক হাজার ৮৬৩টি) ও সুদান (এক হাজার ৬০৫টি)। সুদানের পশ্চিম কর্দোফানের ঘুবাইশ শহরের একটি ব্যস্ত বাজারে সম্প্রতি চালানো ড্রোন হামলায় ২৮ বেসামরিক মানুষ নিহত হন, যা এই নির্মমতার একটি বড় উদাহরণ। এ ছাড়া সিরিয়ায় এক হাজার ৫৩৮টি এবং মালিতে এক হাজার ৪১৫টি একই ধরনের হামলার ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে। 

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতা 

সংঘাতকবলিত এলাকাগুলোয় সাধারণ মানুষ যখনই খাবার বা ত্রাণের সন্ধান করতে গেছে, তখনই তারা হামলার শিকার হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ শুধু ত্রাণ নেওয়ার চেষ্টাকালে ১০ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ হতাহত হয়েছেন। অ্যাকশন অ্যাগেইনস্ট হাঙ্গার সংস্থার মতে, গাজা ও সুদানের দুর্ভিক্ষ বিশ্ব গণমাধ্যমের শিরোনাম হলেও প্রতিদিন অজস্র এমন ঘটনা ঘটছে, যা আড়ালেই থেকে যায়। সেখানে নিয়মিত গবাদি পশু লুট করা হচ্ছে, বোমা মেরে বাজার উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং ত্রাণের গাড়ি আটকে দেওয়া হচ্ছে। 
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে নারী ও শিশু

ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ফলে নারীরা সবচেয়ে বেশি এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থার কারণে নারীদের খাবারের খোঁজে দূরদূরান্তে যেতে হচ্ছে, যা তাদের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। পরিবারের যত্ন নেওয়া অনেক নারী বাধ্য হয়ে সংসারের হাল ধরছেন। 

আরও পড়ুন

×