ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এমএসএফের সতর্কবার্তা

কঙ্গোয় ইবোলার দ্রুত বিস্তার অত্যন্ত উদ্বেগজনক

কঙ্গোয় ইবোলার দ্রুত বিস্তার অত্যন্ত উদ্বেগজনক
×

রোগের বিস্তার যে গতিতে হচ্ছে, তা মোকাবিলায় বর্তমান কার্যক্রম এখনও পর্যাপ্ত নয়।

 সমকাল ডেস্ক 

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ | ১২:০৯

কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক সংস্থা মেদসাঁস সঁ ফ্রোঁতিয়ের (এমএসএফ)। গতকাল রোববার বিবিসির খবরে জানানো হয়, রোগটির প্রাদুর্ভাব ঘোষণার মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। এক বিবৃতিতে এমএসএফের উপপরিচালক অ্যালান গঞ্জালেস বলেন, এত অল্প সময়ে এত বেশি ইবোল আক্রান্ত শনাক্ত হওয়ার ঘটনা এর আগে কখনও দেখা যায়নি। রোগের বিস্তার যে গতিতে হচ্ছে, তা মোকাবিলায় বর্তমান কার্যক্রম এখনও পর্যাপ্ত নয়।

গত শনিবার কঙ্গোর ইবোলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম তদারকি করতে দেশটির সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশের কিছু এলাকা পরিদর্শন করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ড. টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস। গতকাল পর্যন্ত দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্ত সন্দেহে রোগীর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২৪৬ জনের। পাশের দেশ উগান্ডায়ও ৯ জন আক্রান্ত এবং একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এ পরিস্থিতিতে এমএসএফের উপপরিচালক বিবৃতিতে বলেন, ভাইরাস সংক্রমণের গতির তুলনায় এটি মোকাবিলার প্রস্তুতি এখনও অনেক পিছিয়ে। সীমান্ত ও বিমানবন্দর বন্ধ থাকাসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় চিকিৎসাসামগ্রী ও মানবিক সহায়তা পৌঁছাতেও দেরি হচ্ছে। 

এদিকে ডব্লিউএইচও বলছে, কঙ্গোর অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতও এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতুরি সফরে ডব্লিউএইচওর প্রধান স্থানীয় বাসিন্দাদের এই মহামারি মোকাবিলায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ স্পর্শ করার মাধ্যমেও ভাইরাসটি ছড়াতে পারে। তাই প্রিয়জন হারানোর শোকের মধ্যেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সাধারণত বাদুড়জাতীয় প্রাণী থেকে ইবোলা ছড়ালেও, আক্রান্ত প্রাণীর  সংস্পর্শে এলে বা মাংস খেলে মানুষের শরীরেও এটি সংক্রমিত হতে পারে। মানুষের মধ্যে এটি রক্ত, লালা, বমি বা ঘামের মতো তরল পদার্থের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়, যার কারণে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে সম্পূর্ণ আলাদা রেখে চিকিৎসা দিতে হয়।

বিবিসি জানায়, ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশে মানুষের জীবনযাত্রা এখনও স্বাভাবিক। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানবন্দরের যাত্রীদের হাত ধোয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে এবং সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকারি গবেষণাগারটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইবোলা পরীক্ষার ফলাফল দিতে পারছে, যা আগে দেড় হাজার কিলোমিটার দূরে পাঠাতে হতো। দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা চিকিৎসকদের দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে সাহায্য করছে। 

আরও পড়ুন

×