সভ্যতা
আমাজনের হারানো শহর
এখনও চলছে আমাজনের হারানো শহর নিয়ে গবেষণা - বিবিসি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ০৮:৫২ | আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ | ১০:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
ইকুয়েডরের আমাজন বনে মিলেছে তিন হাজার বছরেরও বেশি সময়ের পুরোনো নগরায়ণের প্রমাণ। এটি একেবারে আনকোড়া নতুন কিছু নয়। ৫০ বছর আগেই এর কিছু প্রমাণ হাতে এসেছিল স্থানীয় প্রত্নতত্ত্ববিদদের। তবে এটি যে এতটা বিস্তৃত ও সুসংগঠিত, তা বুঝে উঠতে পারেননি তারা।
হাতে আসা নতুন প্রমাণ পাল্টে দিচ্ছে অতীতের সব হিসাব। আগে সবার ধারণা ছিল, প্রাচীন যুগে আমাজন অঞ্চলে শুধু শিকারি শ্রেণি বসবাস করত, তারা সংখ্যায় ছিল মুষ্টিমেয়। এখন নতুন প্রমাণ বলছে, বিষয়টি ভিন্ন। আমাজনের ওই অঞ্চলে হয়তো বাস করত এমন এক শ্রেণি, যারা সেই সময়েই গড়ে তুলেছিল নগর সভ্যতা। প্রাচীন আমলের মানুষের সেই নগরের ধারণার সঙ্গে বর্তমানের বাস্তবতা মিলবে না। তবে তারা যে নগর গড়ে তুলেছিল, সেটি সেই সময়ের তুলনায় আধুনিক ছিল এবং তারা একটি জটিল প্রক্রিয়ার নগরকেন্দ্রিক নেটওয়ার্কনির্ভর সভ্যতা গড়ে তুলেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যে স্থানটির কথা বলা হচ্ছে, সেটির নাম উপানো উপত্যকা। সেখানে বড় পরিসরে মানুষের তৈরি সাত হাজার ৫০০টি কাঠামো পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পাঁচ হাজারেরও বেশি মাটির তৈরি প্ল্যাটফর্ম, প্রায় দেড় হাজার টিলা, শত শত গোলাকার ঢিবি, ছাদ, পথ, সড়ক ও নিষ্কাশন ব্যবস্থা। মাটির তৈরি প্ল্যাটফর্মগুলো আবার পরিখা ও সড়কের মাধ্যমে সংযুক্ত। এ থেকে বোঝা যায়, মৌসুমভেদে বদলে যেত সেগুলোর ব্যবহার।
এদিকে আবার আয়তক্ষেত্রাকার যে ঢিবিগুলো পাওয়া গেছে, সেগুলোর কোনো কোনোটির উচ্চতা ৭ থেকে ১০ ফুট, চওড়ায় ৩৩ থেকে ৬৬ ফুট। ধারণা করা হয়, এগুলোর ওপর প্রাচীন আমাজন সভ্যতার মানুষ বসবাস করত। সেখানে প্রত্নতত্ত্ববিদরা পাত্র, পাথর ও সেদ্ধ বীজের মতো নানা দৈনন্দিন সামগ্রী খুঁজে পেয়েছেন। এ ছাড়া আরও কিছু প্ল্যাটফর্ম আছে, যেগুলো ১৫ থেকে ২৬ ফুট উঁচু এবং ১৩০ থেকে ৫০০ ফুট চওড়া। ধারণা করা হয়, আমাজনের বাসিন্দারা হয়তো সেখানে অনুষ্ঠান উদযাপন করত।
এ জায়গার প্রথম প্রমাণ মেলে ১৯৭৮ সালে সাঙ্গায় আগ্নেয়গিরির কাছে। স্থানীয় এক পাদ্রি পেদ্রো পোরাস তাঁর বন্ধুর কাছে উপত্যকায় অদ্ভুত এক সমতল রয়েছে বলে খবর পান। তিনি ২০০ দিনেরও বেশি সময় ব্যয় করে উপত্যকায় ১৫টি ভিন্ন ভিন্ন এলাকা খুঁজে বের করেন। তিনি যেটুকু জায়গা পেয়েছিলেন, সেটির নাম দেওয়া হয়েছিল হুয়াপুলা সাইট। পরে ১৯৯০-এর দশকে প্রত্নতত্ত্ববিদরা কিছু স্বল্প পরিসরের খনন চালিয়ে অন্যান্য ছোট ছোট নিদর্শন পেতে শুরু করেন। তবে মোড় ঘুরে যায় ২০১৫ সালের জুলাইয়ে। সেই বছর ইকুয়েডোরিয়ান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কালচারাল হেরিটেজ (আইএনপিসি) এক বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মানচিত্র তৈরির কথা ভাবে। সে প্রযুক্তির নাম লাইট ডিটেকশন অ্যান্ড রেঞ্জিং (লাইডার)।
আইএনপিসির প্রযুক্তিবিদরা বিমানে করে ওপরে উঠে লাখ লাখ লেজার রশ্মি ছুড়ে স্থলভাগের থ্রিডি মানচিত্র তৈরি করেন। আর সেটিতেই উঠে আসে নতুন প্রমাণ। তারা বুঝতে পারেন, ছোট একটি অংশ নয়, বরং বিপুল এলাকাজুড়ে রয়েছে এক প্রাচীন নগরের নেটওয়ার্ক। তাদের একট্টা করা তথ্য-উপাত্তের ওপর সাম্প্রতিক সময়ে চালানো এক বিশ্লেষণে আরও ভালোভাবে সেই নগর নেটওয়ার্কের অস্তিত্বের ধারণা পাওয়া যায়। এ নিয়ে গবেষণা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। বরং প্রতিনিয়তই তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে নতুন নতুন বিষয় সামনে আসছে। সূত্র: বিবিসি।
- বিষয় :
- আমাজন
