হেলিকপ্টারের ক্রু উদ্ধার করা মার্কিন ড্রোন কতটা উন্নত প্রযুক্তির
সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর চালকবিহীন বিশেষ ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত
রয়টার্স
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ১৩:২৪ | আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ | ১৪:০৩
হরমুজ প্রণালির কাছে একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর সেটির দুই ক্রুকে উদ্ধারে বিশেষ ড্রোন ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সাগরে বিপদে পড়া সামরিক কর্মীদের উদ্ধারে দেশটি প্রথমবারের মতো এ ধরনের নৌযান ব্যবহার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, ‘সারোনিক করসেয়ার’ নামের যানটি ২৪ ফুট দীর্ঘ। এতে কোনো চালক থাকে না। পেন্টাগন প্রচলিত যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি চালকহীন যানের পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এই ড্রোনটি সেই চেষ্টার অংশ।
চালকবিহীন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালে ‘টাস্ক ফোর্স ৫৯’ নামে একটি ইউনিট গঠন করে। এটি বাহরাইনে অবস্থিত। টাস্ক ফোর্সটি গত মার্চ মাসের শেষ দিকে মধ্যপ্রাচ্যে ‘করসেয়ার’ ড্রোনগুলো মোতায়েন শুরু করে।
মার্কিন নৌবাহিনী পানির উপরিভাগে ও নিচে চলাচলকারী উভয় ধরনের ড্রোনই মোতায়েন করে থাকে। এ ধরনের যান প্রয়োজন অনুযায়ী কমান্ডারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজকে সহজ করে দেয়। তবে পানির নিচে চলাচলকারী আধুনিক প্রযুক্তির অনেক ড্রোন সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সি ড্রোনগুলো মূলত নজরদারি, মাইন শনাক্তকরণ এবং শত্রুপক্ষের তৎপরতা ট্র্যাক করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে কিছু ড্রোনকে যুদ্ধকালীন ভূমিকার জন্যও উপযোগী করে তোলা হচ্ছে। এগুলো নিয়মিত টহল ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে।
কম খরচে সামরিক পরিধি বাড়াতে এবং যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পেন্টাগন এই স্বয়ংক্রিয় নৌযানগুলোর পেছনে বিনিয়োগ করছে। মার্কিন নৌবাহিনীর শত শত এবং প্রয়োজনে হাজার হাজার ‘করসেয়ার’ ড্রোন মোতায়েনের পরিকল্পনা আছে। তবে সি ড্রোনের এই প্রযুক্তি এখনও বিকাশমান এবং কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
রাশিয়ার বিরুদ্ধে সি ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেন এগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। এর মধ্যে আছে যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া এমনকি একটি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার মতো ঘটনা। চালকবিহীন নৌযানের জন্য এগুলো নজিরবিহীন সাফল্য।
- বিষয় :
- ড্রোন
- সমুদ্র
- নৌবাহিনী
- যুক্তরাষ্ট্র
- প্রযুক্তি
- সামরিক শক্তি