ইরানে আবার ‘কঠোর’ আঘাত হানবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ০৩:১০ | আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ | ০৩:২২
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে আবারও ‘কঠোর’ আঘাত হানবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দু’পক্ষ পাল্টাপাল্টি হামলা চালানোর পর এ ঘোষণা দেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা গতকাল তাদের ওপর কঠোর আঘাত হেনেছি এবং আজকেও তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছি।’ ইরানের প্রতি চুক্তিতে সই করারও আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। খবর বিবিসি, আল জাজিরার
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক্সে এক পোস্টে বলেছেন, যে কোনো চাপ বা হুমকির বিরুদ্ধে ইরান কঠোরভাবে দাঁড়াবে।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন নিশানায় বিমান হামলা চালায়। জবাবে জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান।
পাল্টাপাল্টি হামলার পর বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, চুক্তির দর-কষাকষিতে ইরান সময় ক্ষেপণ করছে। এ জন্য দেশটিকে মূল্য দিতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে অভিযোগ করে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে ‘কূটনৈতিক যোগাযোগ’ পুনর্মূল্যায়ন করবে।
নতুন করে এই উত্তেজনার মধ্যেও ওয়াশিংটন ও তেহরানকে আলোচনায় ফেরাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তারই অংশ হিসেবে বুধবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল ইরানের রাজধানী তেহরানে গেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একযোগে ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। এর ৪০ দিনের মাথায় ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন-তেহরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়া শেষ হয়। এর পর থেকে তাদের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠকের চেষ্টা চলছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুর মতো ইরানের বেসামরিক স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। বুধবার তিনি একই হুমকির পুনরাবৃত্তি করে ফক্স নিউজকে বলেন, তেহরান চুক্তিতে সই করতে রাজি না হলে তিনি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন হামলার নির্দেশ দিতে পারেন।
এদিন প্রায় আধা ঘণ্টার ব্যবধানে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ইরান নিয়ে দুটি পোস্ট দেন ট্রাম্প। প্রথমটিতে ট্রাম্প দর-কষাকষিতে দেরি করায় ইরানকে মূল্য চোকাতে হবে উল্লেখ করে লেখেন, ‘ইরানের সামরিক বাহিনী পুরোপুরি বিশৃঙ্খল অবস্থায় রয়েছে। তাদের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর বড় অংশের কার্যত আর কোনো অস্তিত্বই নেই।...মধ্যপ্রাচ্যের মোড়লের মৃত্যু ঘটেছে।’
পরের পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘ইরান কোনো ব্যবসাই করতে পারছে না, তারা সামরিক বাহিনীর বেতন বা অন্য কোনো বিল পরিশোধ করতে পারছে না। তারা দ্রুত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে।’
ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনর্মূল্যায়ন করার কথা উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যেকোনো কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য ন্যূনতম একটি স্থিতিশীল পরিবেশ থাকা প্রয়োজন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মঙ্গলবার রাতে এক্সে এক পোস্টে লেখেন, ‘যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয়ের মুখোমুখি হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দৃঢ়তা ও সংকল্পকে পরীক্ষা করার পথ বেছে নিয়েছে। আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো হামলা বা হুমকির জবাব দেবে। নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।’
- বিষয় :
- ইরান
- ডোনাল্ড ট্রাম্প
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট
