ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে তিন বছরের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি, ট্রাম্প বললেন—আমি মূল্যস্ফীতি ভালোবাসি

যুক্তরাষ্ট্রে তিন বছরের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি, ট্রাম্প বললেন—আমি মূল্যস্ফীতি ভালোবাসি
×

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিবিসি

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ০৯:৪৫

যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ‘মূল্যস্ফীতি ভালোবাসেন’। গত মাসে দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার বার্ষিক হিসাবে ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) বুধবার প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, মে মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, 'আমি এটা ভালোবাসি। সংখ্যাগুলো দুর্দান্ত ছিল। জানেন আমি সবচেয়ে বেশি কী ভালোবাসি? আমি মূল্যস্ফীতি ভালোবাসি।' তবে তিনি দাবি করেন, ইরান-সংঘাত শেষ হলে মূল্যস্ফীতি দ্রুত কমে যাবে। ট্রাম্প বলেন, 'এই যুদ্ধ শেষ হলে মূল্যস্ফীতি পাথরের মতো নিচে নেমে আসবে।' পরে ওই দিনই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালায়।

মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী রাতের অভিযানে ইরান থেকে 'লাখ লাখ ব্যারেল' তেল সরিয়ে নিয়েছে, যা তেলের দামে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, 'এই সংঘাত শেষ হলে তেলের দাম আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।'

২০২৬ সালের শুরুতে আইওয়া সফরের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, সেখানে তিনি প্রতি গ্যালন পেট্রোল ১ দশমিক ৮৫ ডলারে বিক্রি হতে দেখেছেন এবং খুব শিগগিরই দেশজুড়ে সেই পর্যায়ে ফিরে যাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করেন। তবে বৈশ্বিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এখনো যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রয়েছে।

পরে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি আসলে বলতে চেয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধ সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম রয়েছে। এ নিয়ে টানা তৃতীয় মাসের মতো যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফলে ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ট্রাম্প এর আগেও বলেছিলেন, মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতি সাময়িক এবং যুদ্ধ শেষ হলে তা দ্রুত কমে আসবে।

বর্তমান মূল্যস্ফীতি এখনো ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে রেকর্ড ৯ দশমিক ১ শতাংশের অনেক নিচে রয়েছে। তবে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনীতি ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয় হওয়ায় এটি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে।

মে মাসে গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ সামগ্রিক জ্বালানি ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। এর বড় অংশই এসেছে পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধি থেকে। অন্যদিকে মোটরচালক সংগঠন এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত গ্রেডের এক গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৪ দশমিক ১৫ ডলার, যা ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর সময় ছিল ২ দশমিক ৯৮ ডলার।

সংঘাতের জেরে ইরান কার্যত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নৌপথ বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। বিএলএসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিমান ভাড়া, ব্যক্তিগত ও চিকিৎসাসেবা, বিনোদন এবং যোগাযোগ খাতে ব্যয়ও বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতি লক্ষ্য ২ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের বেশিরভাগই মনে করছেন, আগামী বৈঠকে সুদের হার ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের বর্তমান সীমার মধ্যেই রাখা হবে। তবে মূল্যস্ফীতি যদি আরও স্থায়ী আকার ধারণ করে, তাহলে ফেডকে সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
 

আরও পড়ুন

×