সাড়ে ৩ বছর কোমায় কাটিয়ে থাই রাজকুমারীর মৃত্যু
রাজকুমারী বজরকিতিয়াভা মাহিদল
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ | ০৫:৩৬
২০২২ সালের ডিসেম্বরে হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ার পর থেকে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন থাইল্যান্ডের রাজকুমারী বজরকিতিয়াভা মাহিদল। সেখানেই টানা সাড়ে তিন বছর কোমায় কাটিয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৪৭ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে বলা হয়, থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের (রাজা রামা দশম) সাত সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ ছিলেন বজরকিতিয়াভা।
টেলিভিশনে এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, প্রয়াত রাজকুমারী ছিলেন ‘থাইল্যান্ডের গর্ব’। শুক্রবার ব্যাংককের কিং চুলালংকর্ন মেমোরিয়াল হাসপাতালে বহু মানুষ জড়ো হয়ে রাজকুমারীর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অনেকে তাঁর ছবি হাতে উপস্থিত হয়েছিলেন। শোকাহত পাট্টামাপর্ন কেওকিত্যাকর্ন বলেন, ‘আমি জানতাম তিনি অসুস্থ, কিন্তু মনে মনে অলৌকিক কিছু ঘটার আশায় ছিলাম।’
১৯৭৮ সালের ৭ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন বজরকিতিয়াভা। রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন ও তাঁর প্রথম স্ত্রী সোমসাওয়ালির একমাত্র সন্তান ছিলেন বজরকিতিয়াভা। তাঁর পুরো নাম ছিল প্রিন্সেস বজরকিতিয়াভা নরেন্দিরাদেব্যাবতী। ‘প্রিন্সেস ভা’ নামেও ডাকা হতো তাঁকে।
বজরকিতিয়াভা যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে শিক্ষা নিয়ে ২০০০-এর দশকের শুরুতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে থাইল্যান্ডের স্থায়ী মিশনে কিছুদিন কাজ করেন। পরে দেশে ফিরে উদোন থানি প্রদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল পদে যোগ দেন।
থাই জনগণের কাছে জনপ্রিয় রাজকুমারী বজরকিতিয়াভার ‘কমলাংজাই’ (অর্থ: অনুপ্রেরণা) কর্মসূচি কারাবন্দি নারীদের মুক্তির আগে পুনর্বাসনে সহায়তা করত। নারী বন্দিদের যত্ন ও কারা-পরিবেশ উন্নয়নে তাঁর প্রচেষ্টাতেই ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ‘ব্যাংকক রুলস’ অনুমোদন করে। ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি অস্ট্রিয়াতে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। ২০১৭ সালে তাঁকে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের শুভেচ্ছাদূত করা হয়।
রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার ব্যবস্থায় পুরুষদের প্রাধান্য থাকলেও পরে সংবিধান পরিবর্তনের ফলে বজরকিতিয়াভা থাইল্যান্ডের প্রথম নারী শাসক হওয়ার সুযোগ পেতে পারতেন। বর্তমানে সিংহাসনের সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন তাঁর ছোট ভাই দীপাঙ্কর্ন রাসমিজোতি। খবর আলজাজিরা।
- বিষয় :
- থাইল্যান্ড
- রাজকুমারী
