ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ অভিষেকেই ৩ গোল হজমের লজ্জায় জিদানপুত্র

বিশ্বকাপ অভিষেকেই ৩ গোল হজমের লজ্জায় জিদানপুত্র
×

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ১৩:১৯ | আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ | ১৩:৫৯

বাবা জিনেদিন জিদান ছিলেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফুটবলার। কিন্তু ছেলে লুকা জিদানের জায়গা হয়নি ফরাসিদের জাতীয় দলে। বাধ্য হয়ে নাম লিখিয়েছেন আলজেরিয়া জাতীয় দলে। বুধবার আলজেরিয়ার জার্সিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলেন জিদানপুত্র। বিশ্বমঞ্চে জিদানপুত্রের অভিষেক ম্যাচের আলজেরিয়ার প্রতিপক্ষ আর কেউ নয়, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

আর্জেন্টিনার ও আলজেরিয়ার মধ্যকার সেই ম্যাচের সবটুকু আলো কেড়ে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। নিজের রেকর্ডময় ম্যাচটিকে হ্যাটট্রিকের রঙে রাঙান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। অন্যদিকে জিদানপুত্রের সঙ্গী হয় বিশ্বকাপ অভিষেকে ৩ গোল হজমের লজ্জা।

এদিন ছেলের খেলা দেখতে এবং তাকে উৎসাহ যোগাতে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন বাবা জিদান। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে পরাজয়ের ওই ম্যাচে নিজের অভিষেকটা রাঙাতে পারেননি ছেলে লুকা জিদান।

কানসাসের চিলড্রেনস মার্সি পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচজুড়েই আর্জেন্টিনার আক্রমণ সামাল দিতে বেশ ব্যস্ত সময় পার করেছেন লুকা। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শট সেভ করলেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শক্তিশালী আক্রমণের সামনে টিকতে পারেননি ২৮ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।।

ফ্রান্সের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে খেললেও বাবার মতো সিনিয়র দলে জায়গা পাননি লুকা জিদান। পরে পিতৃসূত্রে পাওয়া যোগ্যতায় আলজেরিয়ার জার্সিতে খেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তার দাদা-দাদি আলজেরিয়ান ছিলেন। তবে মায়ের সূত্রে স্পেনের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগও ছিল তার সামনে। কিন্তু লুকা বেছে নিয়েছেন আলজেরিয়াকে।

গত বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে আলজেরিয়ার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন ২৮ বছর বয়সী লুকা জিদান। বর্তমানে তিনি স্পেনের ক্লাব গ্রানাদার গোলরক্ষক। তবে কয়েক মাস আগেও বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল তার। চলতি বছর এপ্রিলে গ্রানাদার হয়ে আলমেরিয়ার বিপক্ষে খেলতে গিয়ে গুরুতর আঘাত পেয়ে চোয়াল ও থুতনির হাড় ভেঙে যায়। পাশাপাশি গুরুতর কনকাশনেও (মাথায় আঘাতজনিত সমস্যা) ভুগতে হয় তাকে।

অস্ত্রোপচারের পর মৌসুমের বাকি সময় মাঠের বাইরে কাটান লুকা। দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে বিশ্বকাপের আগে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। জায়গা পান আলজেরিয়ার বিশ্বকাপ দলেও। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে এখনও মাঠে নামার সময় বিশেষ সুরক্ষামূলক কালো ফেস মাস্ক ব্যবহার করছেন তিনি, যা মুখে নতুন করে আঘাত লাগার ঝুঁকি কমায়।

স্পেনের ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের সুবাদে আলজেরিয়ার অন্যতম ভরসা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলেন তিনি। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বাবার পথ অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক ফুটবলের বড় মঞ্চে নিজের নাম লেখান এই গোলরক্ষক।

আরও পড়ুন

×