ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

চুয়াডাঙ্গায় ভাড়া বাসা থেকে আইসিটি কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গায় ভাড়া বাসা থেকে আইসিটি কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
×

মাহমুদুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ | ১৩:১৮

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মাহমুদুর রহমান (৩৫) নামে এক আইসিটি কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে জীবননগর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বসতিপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মাহমুদুর রহমান ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ঝিটকেপুতা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জীবননগর উপজেলা পরিষদে আইসিটি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বসতিপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

পারিবারিক ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মাহমুদুর রহমানের তিন বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তার স্ত্রী ইতি খাতুন বর্তমানে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝে মধ্যে মনোমালিন্য হলেও ঘটনার আগের রাতে কোনো বিরোধ ছিল না বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

নিহতের স্ত্রী ইতি খাতুন বলেন, শুক্রবার সকালে মাহমুদুর রহমান ঘুম থেকে উঠে ছেলের জন্য জুস কিনতে বাইরে যান। পরে বাসায় ফিরে একটি কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় তিনি ডাকাডাকি করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।

নিহতের বাবা আতাউর রহমান জানান, তার ছেলে ও পুত্রবধূর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি ও মনোমালিন্য হতো। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহমুদুর রহমান তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং পরিবারের খোঁজখবর নেন। এরপর হঠাৎ ফোন কেটে দেন। কিছুক্ষণ পর তার মৃত্যুর খবর পান তারা।

খবর পেয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, 'মাহমুদুর রহমান উপজেলা পরিষদের একজন শান্ত, ভদ্র ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।'

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, 'খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।' তিনি আরও বলেন, ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্ত শেষে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
 

আরও পড়ুন

×