ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

জন্মদিনে মেয়েকে কাছে পেয়েছি এটাই বড় আনন্দ: দিলারা জামান

জন্মদিনে মেয়েকে কাছে পেয়েছি এটাই বড় আনন্দ: দিলারা জামান
×

দিলারা জামান। ছবি: সংগৃহীত

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ | ১৪:৩০ | আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ | ১৪:৩১

বাংলা অভিনয়জগতের কিংবদন্তি অভিনেত্রী দিলারা জামান আজ জীবনের ৮৩তম জন্মদিন উদযাপন করছেন। বয়সের ক্যালেন্ডার আশির ঘর পেরোলেও তার প্রাণবন্ত হাসি আর উচ্ছ্বাসে সেই ছাপ খুঁজে পাওয়া কঠিন। জন্মদিনের এই বিশেষ দিনে পরিবারের সান্নিধ্যই হয়ে উঠেছে তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

জন্মদিন উপলক্ষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে দিলারা জামান বলেন, এবারের দিনটি তার কাছে অন্যবারের চেয়ে বেশি আনন্দের। কারণ দীর্ঘদিন পর বড় মেয়েকে কাছে পেয়েছেন। তার দুই মেয়ে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। তাই মেয়ের উপস্থিতিই তাকে দিয়েছে বাড়তি আনন্দ।

‘জন্মদিনে আমার বড় মেয়ে এসেছে। তাকে কাছে পেয়েছি, এটাই অনেক আনন্দের’ বলেন তিনি।

জন্মদিনের আয়োজন নিয়ে খুব বেশি ভাবছেন না এই গুণী অভিনেত্রী। বরং পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসাতেই নিজেকে সিক্ত মনে করছেন। হাসতে হাসতে তিনি বলেন, “আমার মেয়েরা কী আয়োজন করবে, আমি নিজেও জানি না। আমি তো চুপচাপ ঘরে বসে আছি। সবাই আসছে, শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।”

জীবনের দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা থেকে বয়সকে খুব স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেছেন দিলারা জামান। ভক্ত-অনুরাগীদের উদ্দেশে তার একটাই চাওয়া—সুস্থতা ও দোয়া।

‘দিন যত যাচ্ছে, ততই তো প্রবীণ হচ্ছি। সবাই দোয়া করবেন, যেন সুস্থ থাকি’ বলেন তিনি।

আশি পেরিয়েও অভিনয়ই এখনো তার সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। নিয়মিত অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এ মাসে কাজের ব্যস্ততা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছেন। কারণ মেয়ের সঙ্গে সময় কাটাতে চান তিনি। তবে পুরোপুরি বিরতিও নিতে পারছেন না।

দিলারা জামান জানান, ‘মেয়ে এসেছে, তাই এই মাসে কোনো কাজ রাখিনি। তবে ২২-২৩ তারিখে একটা কাজ করে দিতে হবে। ওরা খুব করে আবদার করেছে।’

১৯৪৩ সালের ১৯ জুন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন দিলারা জামান। দেশভাগের আগে পরিবারের সঙ্গে আসানসোলে বসবাস করলেও ১৯৪৭ সালে তারা চলে আসেন যশোরে। পরে ঢাকার বাংলাবাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও ইডেন কলেজ-এ পড়াশোনা করেন তিনি। স্কুলজীবনেই মঞ্চনাটকের মাধ্যমে অভিনয়ের সঙ্গে তার পরিচয়, যা পরবর্তীতে হয়ে ওঠে আজীবনের পথচলা।

অভিনয়জীবনে আসার আগে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৬৬ সালে টেলিভিশন নাটক ‘ত্রিধরা’র মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক ঘটে। পরবর্তীতে ‘সকাল সন্ধ্যা’ ধারাবাহিক নাটকের মাধ্যমে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন। চলচ্চিত্রে তার যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৪ সালে আগুনের পরশমণি সিনেমার মাধ্যমে, যার নির্মাতা ছিলেন হুমায়ূন আহমেদ।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শত শত নাটক ও অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের অভিনয় অঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল নাম। অভিনয়ে অবদানের জন্য অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এছাড়া সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৩ সালে পেয়েছেন একুশে পদক।

আরও পড়ুন

×