ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

অশিক্ষিতরা দেশ চালাচ্ছেন—সমাবেশে চড় খেয়ে যা বললেন তেলাপোকাপ্রধান

অশিক্ষিতরা দেশ চালাচ্ছেন—সমাবেশে চড় খেয়ে যা বললেন তেলাপোকাপ্রধান
×

সমর্থকদের কাঁধে চড়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশের সময় কয়েকজন ব্যক্তি দিপকে কে উপর্যুপরি চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ১০:১৮

ভারতের রাজস্থানের জয়পুরে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দিপকে। সমর্থকদের কাঁধে চড়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশের সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে উপর্যুপরি চড়-থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে হামলার পরও মঞ্চে উঠে শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সরকারের সমালোচনায় সরব ছিলেন তিনি। এ সময় তিনি মন্তব্য করেন, 'তারা নিজেরা কখনো স্কুলে যাননি। আপনারা অশিক্ষিত, এ কারণেই কোনো পরীক্ষাই ঠিকমতো নিতে পারেন না।'

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সমর্থকদের কাঁধে চড়ে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করছিলেন দিপকে। এ সময় তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নাড়ছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হয়ে চড়-থাপ্পড় মারেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

ঘটনার পর মঞ্চে উঠে দিপকে বলেন, হামলার মাধ্যমে তার কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। তিনি সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, 'যারা আমার ওপর হামলা করেছেন, তাদের ছেড়ে দিন। তাদের মারধর করবেন না। আমি আরও দশবার মার খেতে রাজি আছি, কিন্তু কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না।'

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, 'আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই আমাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরব। আমি মহাত্মা গান্ধী ও ড. বি. আর. আম্বেদকরের আদর্শে বিশ্বাসী। শান্তি ও ভালোবাসা দিয়েই এই লড়াই চালিয়ে যাব।' সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা দাবি করেন, হামলাকারীরা একটি জাতীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং শিগগিরই তা প্রকাশ করা হবে।

অন্যদিকে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের একজন রাকেশ গুর্জর নিজেকে জাতীয়তাবাদী হিসেবে পরিচয় দিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রমে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সঙ্গে যোগাযোগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

জয়পুরের উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) রাজর্ষি রাজ বর্মা জানান, সমাবেশস্থলে হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, দিপকের ওপর হামলার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা ও কেন্দ্রীয় সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন অভিজিৎ দিপকে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষায় অনিয়ম এবং ফলাফল মূল্যায়ন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'আপনারা একটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রই ঠিকমতো সামলাতে পারেন না, দেশ কীভাবে সামলাবেন?'

সিবিএসই বোর্ডের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষার্থী পরিশ্রম করে পরীক্ষা দিলেও ভুল নম্বর পাচ্ছেন। পরে পুনর্মূল্যায়নের জন্য তাদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, 'সরকার ভুল করবে, আর সেই ভুল সংশোধনের জন্য শিক্ষার্থীদের টাকা দিতে হবে-এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।'

সরকারের নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে কটাক্ষ করে দিপকে বলেন, 'তারা এই সমস্যার গভীরতা বুঝবেন না। কারণ তারা নিজেরা কখনো স্কুলে যাননি। আপনারা অশিক্ষিত, তাই কোনো পরীক্ষাই সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেন না।'

অনলাইন পরীক্ষার সময় ঘন ঘন সার্ভার সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, 'নির্বাচনের সময় কখনো সার্ভার ডাউন হয় না, কিন্তু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সময়ই প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয়।'

নিট (এনইইটি) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যেরও সমালোচনা করেন সিজেপি প্রধান। তার দাবি, ক্ষমতাসীনদের সন্তানরা বিদেশে পড়াশোনা করেন বলেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ তাদের কাছে গুরুত্ব পায় না।

গত বছর রাজস্থানের ঝালাওয়ারে একটি সরকারি বিদ্যালয়ের ছাদ ধসে সাত শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে দিপকে বলেন, 'যদি কোনো প্রভাবশালী নেতার সন্তান ওই বিদ্যালয়ে পড়ত, তাহলে কি সেই ভবনের অবস্থা এমন থাকত?'

বক্তব্যে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির মাধ্যমে জনগণের দৃষ্টি শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য মৌলিক সমস্যা থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সমাবেশের শেষদিকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করে আগামী ২০ জুন দিল্লিতে অনির্দিষ্টকালের আন্দোলনের ঘোষণা দেন অভিজিৎ দিপকে। এ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক সমর্থককে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের স্মরণে দুই মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। জয়পুর পুলিশের অনুমতি অনুযায়ী কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ ৮০০ জন অংশগ্রহণের কথা থাকলেও সাংবাদিক, ইউটিউবার ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে ভিড় আরও বেশি ছিল বলে জানা গেছে।
 

আরও পড়ুন

×