ভারতীয় স্বামীর আর্জি
বাংলাদেশে যেন স্ত্রীকে ফেরত না পাঠানো হয়
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত (ফাইল ফটো)
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ০৮:৩৩ | আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
স্ত্রী বাংলাদেশি, স্বামী ভারতীয় নাগরিক। এই দম্পতির রয়েছে দুই নাবালক সন্তান। স্ত্রীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের সরকার। স্ত্রীকে যেন নিজ দেশে ফেরত পাঠানো না হয়– সরকারের কাছে কাতর আর্জি জানিয়েছে ভারতীয় স্বামী। এ ঘটনা ভারতের গুজরাটের আনন্দ জেলার লামভভেল গ্রামের।
জানা গেছে, গুজরাটের যুবক তরুণ প্যাটেলের সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে বাংলাদেশি নারীর পরিচয় হয়। এরপর প্রেম, পরে বিয়ে। বিয়ের পর ভারতে এসে ওই নারী হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে শুরু করেছে গুজরাট। বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চেয়ে তালিকাভুক্ত সন্দেহভাজনদের মধ্যে তরুণের স্ত্রী কাজলও রয়েছেন। ভারত সরকারের কাছে তরুণের কাতর আবেদন, তাঁর স্ত্রী ভারতে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তাই তাঁকে যেন বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো না হয়। তাঁর স্ত্রীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে তাঁর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
গুজরাট পুলিশ মহাপরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে বসবাসের অভিযোগে চলতি মাসে এ পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ছয় শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে আনন্দ জেলা থেকেই আটক করা হয়েছে ৬০ জনকে।
তরুণের দাবি, তাঁর স্ত্রী কাজল বাংলাদেশে বৈধভাবে পাসপোর্ট সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন, যাতে তারা আইনিভাবে বিয়ে করতে পারেন। কিন্তু তা পেতে ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত তিনি অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন এবং গুজরাটের আনন্দ জেলায় এসে পৌঁছান। সেই থেকে তারা একসঙ্গে বসবাস করছেন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে।
তরুণ প্যাটেল জানান, বৈধ নথিপত্র ছাড়াই ভারতে বসবাসের বিষয়টি ধরা পড়ার পর আনন্দ লোকাল ক্রাইম ব্রাঞ্চ সম্প্রতি তাঁর স্ত্রীকে আটক করেছে। বর্তমানে তাঁকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) প্রক্রিয়া চলছে।
গুজরাটের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হর্ষ সাংভির কাছে আবেদন জানিয়ে তরুণ প্যাটলের আর্জি, মানবিক কারণে তাঁর স্ত্রীকে যেন নিজ দেশে ফেরত না পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনন্দ জেলার পুলিশ সুপার জি জি জাসানি কোনো মন্তব্য করেননি।
আহমেদাবাদ রেঞ্জের পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) রাঘবেন্দ্র ভাটসা বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। আনন্দ জেলার পুলিশ সুপারের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পরই এ বিষয়ে মন্তব্য করব।’
- বিষয় :
- সীমান্ত
- বাংলাদেশ-ভারত
