হরমুজ থেকে লেবানন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় কতটা অগ্রগতি হলো
বৈঠক শুরুর আগে (বাঁ থেকে) মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল-থানি ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ছবি: এএফপি
আল জাজিরা
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬ | ১০:০৮
সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনার প্রথম ধাপে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, ইরানের জব্দ করা সম্পদ, জ্বালানি খাত এবং লেবানন যুদ্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতার এবং ইরানের কর্মকর্তারা কয়েকটি ক্ষেত্রে অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতা
বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমাতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে কূটনৈতিক যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। পাকিস্তান ও কাতারের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য ভুল বোঝাবুঝি ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে দুই দেশের মধ্যে একটি বিশেষ যোগাযোগ চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করা হবে।
‘বড় অগ্রগতি’ দাবি ইরানের
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, জ্বালানি তেল এবং ইরানের জব্দ করা কিছু সম্পদের বিষয়ে আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় লেবানন ইস্যুতেও ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্য
মধ্যস্থতাকারী দেশ দুটির যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, যুদ্ধ-পরবর্তী স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে রোডম্যাপ তৈরিতে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিশ্চিত করাই বর্তমান আলোচনার মূল লক্ষ্য।
সপ্তাহজুড়ে চলবে আলোচনা
পাকিস্তান ও কাতার জানিয়েছে, বুর্গেনস্টকে চলতি সপ্তাহজুড়ে কৌশলগত ও কারিগরি আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং লেবানন-সংক্রান্ত নিরাপত্তা ইস্যুর মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে।
কারা অংশ নিচ্ছেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। প্রতিনিধিদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল থানি। এছাড়া সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিস ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসিও উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- সুইজারল্যান্ড
- ইরান
- যুক্তরাষ্ট্র
