ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

ইউরোপে দাবদাহে অস্থির জনজীবন, এল নিনোই কি কারণ?

ইউরোপে দাবদাহে অস্থির জনজীবন, এল নিনোই কি কারণ?
×

রোদের তীব্রতা থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহার করেন এক পথচারী। মঙ্গলবার লন্ডনে। ছবি: এএফপি

ইউরো নিউজ

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ১৪:৪৯ | আপডেট: ২৪ জুন ২০২৬ | ১৫:২৩

ইউরোপের বাসিন্দারা কয়েকদিনের তীব্র দাবদাহে হাঁসফাঁস করছেন। চলতি বছর পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোতে এটি তৃতীয় দফার তাপপ্রবাহ। আগামী কয়েকদিনে কমার কোনো লক্ষণ নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। 

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর (মেট অফিস) বুধ ও বৃহস্পতিবারের জন্য মধ্য ও দক্ষিণ ইংল্যান্ডের কিছু অংশ এবং ওয়েলসে তীব্র দাবদাহের সতর্কতা (রেড অ্যালার্ট) জারি করেছে। আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও অনেক বেশি থাকবে।

মেট অফিস জানিয়েছে, অসহনীয় পরিস্থিতির পেছনে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রাও একটি বড় কারণ। যা এই দাবদাহের প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তীব্র গরমে সৃষ্ট শারীরিক ধকল (হিট স্ট্রেস) সব বয়সীদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে মঙ্গলবার তাপমাত্রা উঠেছিল ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ছবি: এএফপি

যুক্তরাজ্যের আগে গত সোমবার ফ্রান্সের এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি হয়। একইদিন দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সের একটি গাড়ি থেকে চার ও দুই বছর বয়সী শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত গরমকে দুই শিশুর মৃত্যুর কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির একটি বিশাল অংশে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে। 

জার্মানিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে দাবানলের আশঙ্কা বেড়েছে। বন, স্টুটগার্ট ও ফ্রাঙ্কফুর্টের মতো অঞ্চলগুলোতে চলতি সপ্তাহের শেষদিকে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

‘এল নিনো’ দায়ী?
কয়েক মাসের নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর চলতি মাসের শুরুতে একটি ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ)। তাদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষরেখায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি শুরু হয়েছে।

রাস্তা দিয়ে চলার সময় হাতপাখা ব্যবহার করেন এক নারী। মঙ্গলবার ফ্রান্সের নঁত শহরে। ছবি: এএফপি

অনেক আবহাওয়াবিদ সতর্ক করেছেন, এবারের এল নিনো গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। গণমাধ্যমগুলো একে ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবেও আখ্যা দিচ্ছে। তবে এটি কোনো বৈজ্ঞানিক পরিভাষা নয়।

এল নিনো (স্প্যানিশ শব্দটির অর্থ ছোট ছেলে) প্রাকৃতিক জলবায়ুর একটি চক্র। পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে পারে। ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হওয়া আগের এল নিনো পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রার রেকর্ড গড়েছিল। 

অনেক গণমাধ্যম ইউরোপের বর্তমান দাবদাহের জন্য এল নিনোকে দায়ী করা হচ্ছে। তবে বৈশ্বিক আবহাওয়া পূর্বাভাসের প্ল্যাটফর্ম ‘ডব্লিউওয়াইএফ২৪’-এর প্রতিষ্ঠাতা ইওনা ভারগিনি বলছেন, এই ধারণাটি ভুল। প্রশান্ত মহাসাগর এখনো শক্তিশালী এল নিনো তৈরির অবস্থায় নেই। এই পরিস্থিতি তৈরি হলেও ইউরোপের গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রার ওপর সুনির্দিষ্ট প্রভাব পরিমাপ করা কঠিন।

দাবানল রোধের প্রস্তুতি হিসেবে সড়কের ধারের ঘাস কাটেন এক কর্মী। মঙ্গলবার স্পেনে। ছবি: এএফপি

ইওনা ভারগিনির মতে, চলমান পরিস্থিতি মূলত ‘ক্লাসিক জেট-স্ট্রিম ব্লকিং’। এর ফলে বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগে দ্রুতবেগে বাতাস চলাচলে অচলাবস্থা তৈরি হয়। যা উষ্ণ আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলে। এখানে মূল প্রভাবক হলো ‘হিট ডোম’ বা উষ্ণ বায়ুর স্তর। দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এর তীব্রতা বাড়ে। 

ভারগিনির দাবি, এল নিনোকে ইউরোপের দাবদাহের কারণ হিসেবে উল্লেখ করাটা অজুহাত ছাড়া কিছুই না।

আরও পড়ুন

×