ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ঝুঁকিপূর্ণ ভবিষ্যৎ 

ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ঝুঁকিপূর্ণ ভবিষ্যৎ 
×

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জাতীয় পতাকা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ১১:৫৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা থামানোর লক্ষ্যে দুই পক্ষ একটি আপাত সমঝোতায় পৌঁছেছে। সমঝোতার ফলে সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতি স্থিতিশীল হয়েছে, যাকে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করেছে যে, যুদ্ধ বন্ধ রাখার পেছনে উভয় পক্ষেরই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ রয়েছে। 

সিএনএনের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরে কয়েক দিনের টানা সংঘাতের পর নতুন করে সমঝোতার খবর এসেছে। দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের এই সংঘাত মূলত তাদের মধ্যকার অস্পষ্ট সমঝোতা স্মারকের পরিধি নির্ধারণ এবং তেহরানের পরমাণু কার্যক্রমসহ আসন্ন আলোচনাগুলোয় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার একটি চেষ্টা ছিল। বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা জবাব এবং এর পর মার্কিন ঘাঁটি ও উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে আবার বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছিল। বিশেষ করে যখন এই প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন শুরু হয়েছে, তখন এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। 

ইরান বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ধরে রেখে নিজেদের কৌশলগত সুবিধা নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। উপসাগরীয় রাষ্ট্র এবং মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে তেহরান যুদ্ধ-পরবর্তী এক নতুন আঞ্চলিক কৌশলগত দৃষ্টান্ত স্থাপনের চেষ্টা করছে। 

অন্যদিকে, ওয়াশিংটন কোনোভাবেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে ছেড়ে দিতে রাজি নয়। কারণ, এতে মনে হবে যুক্তরাষ্ট্র নিজের শুরু করা একটি যুদ্ধে হেরে গেছে। ফলে ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার এবং যে কোনো মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির ক্ষমতা পেয়ে যাবে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে মিত্রদের রক্ষা করার ক্ষেত্রে মার্কিন শক্তিকে দুর্বল করবে। গত সপ্তাহে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপসাগরীয় অঞ্চল সফরের পরই ইরানের এই আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখা যায়। সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও তাঁর মিত্ররা হরমুজ প্রণালিতে কোনো শুল্ক বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই মুক্ত ও শর্তহীন নৌ চলাচলের পক্ষে অবস্থান নেয়। তবে ইরানি উস্কানি এবং মার্কিন পাল্টা জবাবের এই চক্রটি ছিল অত্যন্ত বিপজ্জনক। ট্রাম্প যখন আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের মূল কেন্দ্রে থেকে নিজেকে সর্বশক্তিমান হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই এই ঘটনা তাঁর মর্যাদাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ট্রাম্প গত রোববার হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করতে থাকলে তাদের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। তবে ইরানিরা যুদ্ধের সময় বুঝে গেছে, ট্রাম্পের সব হুঁশিয়ারিতে এত গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। 

ভবিষ্যৎ আলোচনার জটিলতা 
সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সালিভানও পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘ইরানিরা হরমুজের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জাহির করতে এগিয়ে আসবে, আবার ট্রাম্প প্রশাসন তীব্র আপত্তি জানালে পিছিয়ে যাবে। কারণ তারা এই চুক্তি থেকে পাওয়া অর্থনৈতিক সুবিধাগুলো হাতছাড়া করতে চায় না।’ জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মার্কিন সম্পদ বা আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে ইরান কোনো আঘাত হানলে ট্রাম্প তাঁর উপযুক্ত জবাব দেবেন। 

তবে মধ্যপ্রাচ্যে এরপর কী ঘটবে তার ওপর অনেক বড় রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব নির্ভর করছে। মূল প্রশ্ন হলো, হরমুজ প্রণালির এই সংঘাত নিয়ন্ত্রণযোগ্য মাত্রায় থাকবে, নাকি অঞ্চলটিকে আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে। সাময়িকভাবে শান্তি ফিরলেও ট্রাম্পের জন্য এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসা মোটেও সহজ হবে না। 

আরও পড়ুন

×