ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

যুদ্ধের এক হাজার দিন

গাজার ৯০ শতাংশ এলাকা বিধ্বস্ত, ইসরায়েলের দখলে ৮০ শতাংশ

নিহত ৭৩,০৬৬ ফিলিস্তিনি, এর মধ্যে ২১,৫০০ শিশু

গাজার ৯০ শতাংশ এলাকা বিধ্বস্ত, ইসরায়েলের দখলে ৮০ শতাংশ
×

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো গাজা। ছবি: গালফ টুডে

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ০৩:৪৫

গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলের চালানো বিধ্বংসী সামরিক অভিযানের এক হাজার দিন পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ে গাজা উপত্যকার ৯০ শতাংশেরও বেশি এলাকা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এবং মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৮০ শতাংশ ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান তুলে ধরে দেওয়া এক ‍বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়েছে গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস।

গাজা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত এক হাজার দিনে অন্তত ৭৩ হাজার ৬৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি শিশু। এ ছাড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জন।

গাজার সরকারি মিডিয়ার বরাতে গত বৃহস্পতিবার আলজাজিরা জানায়, ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত এক লাখ ৭৩ হাজার ৫১৪ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।

যুদ্ধ চলাকালে গাজায় প্রায় দুই লাখ ২৩ হাজার টন বিস্ফোরক ফেলেছে ইসরায়েল। এই বিস্ফোরক ১৯৪৫ সালে জাপানের হিরোশিমায় ফেলা পারমাণবিক বোমার চেয়ে প্রায় ১৬ গুণ বেশি শক্তিশালী।

উপত্যকাজুড়ে আনুমানিক ছয় কোটি ৮০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমান গতিতে এই ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার করতে সময় লাগবে ১৪০ বছরেরও বেশি।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, চলমান সংকটে গাজার মানব উন্নয়ন সূচক ৭৭ বছর পিছিয়ে গেছে এবং মানুষের গড় আয়ু কমে নেমে এসেছে মাত্র ৪০ বছরে।

গাজায় যুদ্ধ অবসানের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ অনুমোদিত তিন ধাপের যুদ্ধবিরতির রূপরেখাও ভেস্তে যাওয়ার পথে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি তদারকি ও পুনর্গঠন পরিচালনার জন্য গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গঠিত বোর্ড অব পিস ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মানাতে ব্যর্থ হয়েছে। সেনা প্রত্যাহারের পরিবর্তে গাজায় নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়িয়েছে ইসরায়েল। এ ছাড়া প্রতিশ্রুত ত্রাণের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ গাজায় প্রবেশ করতে পারছে।  ফলে গাজার প্রায় চার লাখ মানুষ দিনে মাত্র একবেলা খেয়ে বেঁচে আছেন। উপত্যকায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ৬২ শতাংশ ওষুধ ফুরিয়ে গেছে।

এমনকি গত বছরের অক্টোবরের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইসরায়েলি বাহিনী হত্যা করেছে আরও এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে।

অবকাঠামো ধ্বংস ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

গাজা সিটির মেয়র ইয়াহিয়া আল সাররাজ আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমরা আমাদের সম্পদ, ভবন এবং অবকাঠামোর প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ হারিয়েছি। তবে পৌরসভাগুলো একটি পুনর্গঠন পরিকল্পনা তৈরি করেছে। সীমান্ত খুলে দিলে মানুষ নিজেরাই নিজেদের বাড়িঘর তৈরি করা শুরু করবে।’

ইসরায়েলের নতুন বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ গত সোমবার এক বৈঠকে গাজা সীমান্তে নতুন করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাকি এলাকাগুলোর দখল সম্পন্ন করতে হবে, হামাসকে পরাস্ত করতে হবে এবং ইহুদি বসতির একটি বলয় তৈরি করতে হবে। যেখানে বসতি নেই, সেখানে নিরাপত্তাও নেই।’

এদিকে হামাসের হামলার এক হাজার দিন উপলক্ষে বিক্ষোভ হয়েছে ইসরায়েলে। বিক্ষোভকারীরা গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েল সরকারের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ব্যর্থতার স্বাধীন তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনে পার্লামেন্ট ভবনের পথ অবরোধের চেষ্টা করেন। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েল রাষ্ট্র নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ হয়েছে।

দ্য টাইমস অব ইসরায়েল জানাচ্ছে, যুদ্ধ শুরুর আগে গাজা সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি এলাকাগুলোতে ৬২ হাজার মানুষ বাস করত। ইসরায়েল সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ওই অঞ্চলে এক লাখ ২৪ হাজার মানুষের বাসস্থান নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন

×